বিশ্বকাপ ইতিহাসে আফ্রিকার অবিস্মরণীয় মহাবিপ্লব

বিশ্বকাপ মানেই একসময় আফ্রিকান দলগুলোর জন্য ছিল শুধু সম্ভাবনার গল্প। মাঝেমধ্যে কোনো একটি দল চমক দেখাত, তারপর বিদায় নিত। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই পুরোনো গল্প বদলে দিয়েছে।

বিশ্বকাপ মানেই একসময় আফ্রিকান দলগুলোর জন্য ছিল শুধু সম্ভাবনার গল্প। মাঝেমধ্যে কোনো একটি দল চমক দেখাত, তারপর বিদায় নিত। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই পুরোনো গল্প বদলে দিয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো ১০টি আফ্রিকান দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। আর গ্রুপ পর্ব শেষে ইতিহাস গড়ে তাদের ৯টিই উঠে গেছে নকআউট পর্বে। মরক্কো, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভোরি কোস্ট, সেনেগাল, ঘানা, কঙ্গো ডিআর, আলজেরিয়া এবং কেপ ভার্দে—শুধু তিউনিসিয়াই থেমে গেছে গ্রুপ পর্বে।

এই সাফল্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য ইতিহাসে একটু ফিরে তাকালেই যথেষ্ট। ১৯৩০ থেকে ২০২২—পুরো বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র ছয়টি আফ্রিকান দেশ মিলিয়ে মোট ১১ বার নকআউট পর্বে উঠতে পেরেছিল। অথচ এবার এক আসরেই ৯টি দল শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে। আগের কোনো বিশ্বকাপে একসঙ্গে দুইটির বেশি আফ্রিকান দল নকআউটে উঠতে পারেনি।

সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম কেপ ভার্দে। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই নকআউট নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার হিসেবে এর চেয়ে ছোট কোনো দেশ আগে কখনও নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি।

এক সময় বিশ্বকাপে আফ্রিকার সাফল্য বলতে ক্যামেরুন, সেনেগাল বা মরক্কোর মতো কয়েকটি দলের বিচ্ছিন্ন অর্জনের গল্পই ছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রমাণ করে দিল, আফ্রিকান ফুটবল এখন আর চমকের নাম নয়—এটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় শক্তি।

 

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link