৯১ বছরের জীবন্ত কিংবদন্তির জন্য নিয়ম ভাঙলেন স্কালোনি

জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ঘটেছিল এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত। একজন সাংবাদিক লিওনেল স্কালোনিকে প্রশ্ন করেছিলেন—লিওনেল মেসি কি এই ম্যাচে খেলবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর সাধারণত কোনো কোচই আগেভাগে দিতে চান না। কারণ, ম্যাচের আগে একাদশ বা কৌশল প্রকাশ করা প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। তাই এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ফুটবল দুনিয়ার প্রচলিত রীতি।

জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ঘটেছিল এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত। একজন সাংবাদিক লিওনেল স্কালোনিকে প্রশ্ন করেছিলেন—লিওনেল মেসি কি এই ম্যাচে খেলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তর সাধারণত কোনো কোচই আগেভাগে দিতে চান না। কারণ, ম্যাচের আগে একাদশ বা কৌশল প্রকাশ করা প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। তাই এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ফুটবল দুনিয়ার প্রচলিত রীতি।

কিন্তু স্কালোনি ভিন্ন পথ বেছে নিলেন।

তিনি শুধু প্রশ্নের উত্তরই দিলেন না, বরং জানিয়ে দিলেন, এই উত্তর তিনি দিচ্ছেন প্রশ্নকারী সাংবাদিকের প্রতি সম্মান রেখেই। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুজন একসঙ্গে ছবিও তুললেন। মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকের মনেই তখন একটাই প্রশ্ন,কে এই সাংবাদিক, যার জন্য নিয়ম ভাঙলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ?

সেই মানুষটির নাম এনরিকে মাকাইয়া মার্কুয়েজ।

বর্তমানে তাঁর বয়স ৯১ বছর। তিনি শুধু আর্জেন্টিনার নন, বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিকতারই এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

মার্কুয়েজ প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করেছিলেন ১৯৫৮ সালে সুইডেনে। সেটিই ছিল ফুটবল সম্রাট পেলের অভিষেক বিশ্বকাপ। এরপর আর থামতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক টানা ১৮টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন তিনি। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে, লিখেছেন ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তাঁর চোখের সামনে ফুটবল বদলেছে, বদলেছে যুগ। তিনি দেখেছেন পেলের উত্থান, ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ, আবার দেখেছেন লিওনেল মেসির বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণও। প্রতিটি প্রজন্মের সেরা ফুটবলারদের গল্প তিনি শুধু লিখেই যাননি, বরং তাদের ইতিহাসের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীও ছিলেন।

এই অসাধারণ দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপেও তাঁকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছিল ফিফা।

এমন একজন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে স্কালোনির সম্মান জানানো তাই মোটেও বিস্ময়কর নয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তোলা সেই ছবিটি ছিল না শুধুই একজন কোচ আর একজন সাংবাদিকের ছবি। সেটি ছিল ফুটবলের দুই যুগের মিলন। এক পাশে বর্তমান প্রজন্মের বিশ্বকাপজয়ী কোচ, অন্য পাশে এমন একজন মানুষ, যিনি পেলে থেকে মেসি—ফুটবলের প্রতিটি স্বর্ণযুগ নিজের চোখে দেখেছেন এবং কলমে ধরে রেখেছেন।

এনরিকে মাকাইয়া মার্কুয়েজ তাই শুধু একজন সাংবাদিক নন। তিনি নিজেই ফুটবল ইতিহাসের এক চলমান আর্কাইভ—যার স্মৃতিতে বেঁচে আছে বিশ্ব ফুটবলের সাত দশকেরও বেশি সময়ের গল্প।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link