সেরা বাঁ-হাতি আইপিএল একাদশ

বাঁহাতি ক্রিকেটাররা একটু বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। যেমন একজন বাঁহাতি পেসার যদি কোনো ডান হাতি ব্যাটসম্যানকে ওভার দ্য উইকেট বল করেন তবে বল করার আগেই ব্যাটসম্যান তাঁর পজিশন নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যান। এছাড়াও বোলিং অ্যাঙ্গেলের জন্য বলে এক্সট্রা স্যুইং পান বোলার। আবার ধরুণ একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিজে এসেছেন। যেকোনো বোলারই বল করতে অস্বস্তিতে ভুগবেন। তাই ব্যাটসম্যান হোক বা বোলার বাঁহাতি ক্রিকেটার মানেই একটু আলাদা, একটু স্পেশাল।

যেকোনো দলেই একজন বাঁ-হাতি ক্রিকেটার মানে একটু স্পেশাল। বিভিন্ন কারণে বাঁহাতি ক্রিকেটাররা একটু বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। যেমন একজন বাঁহাতি পেসার যদি কোনো ডান হাতি ব্যাটসম্যানকে ওভার দ্য উইকেট বল করেন তবে বল করার আগেই ব্যাটসম্যান তাঁর পজিশন নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যান।

এছাড়াও বোলিং অ্যাঙ্গেলের জন্য বলে এক্সট্রা স্যুইং পান বোলার। আবার ধরুণ একজন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ক্রিজে এসেছেন। যেকোনো বোলারই বল করতে অস্বস্তিতে ভুগবেন। তাই ব্যাটসম্যান হোক বা বোলার বাঁ-হাতি ক্রিকেটার মানেই একটু আলাদা, একটু স্পেশাল।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়াল লিগে (আইপিএল) আমরা গত এক যুগে এমন কিছু বাঁহাতি ক্রিকেটারদের দেখেছি যারা আজীবন থাকবেন ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে। এই ‘স্পেশাল’ ক্রিকেটারদের নিয়েই খেলা ৭১ তৈরি করেছি আইপিএলের সর্বকালের সেরা বাঁহাতি একাদশ।

  • ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক আমাদের একাদশের ওপেনার। এই ব্যাটসম্যান আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সফল ব্যাটসম্যান। আইপিএলের দল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও সানরাইজ হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলেছেন তিনি। ২০১০ সালের আইপিএলে একটি সেঞ্চুরি করে তিনি তাঁর কার্যকারিতার প্রমাণ দেন। এরপর থেকেই এই আসরের অবিচ্ছেদ্য অংশ ডেভিড ওয়ার্নার। এখন পর্যন্ত আইপিএলে তিনি ম্যাচ খেলেছেন ১২৬ টি এবং তাঁর সংগ্রহ মোট ৪৭০৬ রান।

  • ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে বাদ দিয়ে আইপিএল যেনো পূর্ণতা পায় না। বাইশ গজে স্থির দাঁড়িয়ে তাঁর বিশাল বিশাল ছক্কা যেনো এই আসরটির অন্যতম অংশ। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে তিনি চলে যান রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরে। যেই দলের হয়ে প্রতি বছর ব্যাট হাতে ঝড় তুলে আইপিএলের রোমাঞ্চ বাড়িয়েছেন কয়েক গুন। তাঁর ১৭৫ রানের ইনিংসটি এখনো আইপিএলে সর্বোচ্চ ইনিংস। ১২৫ আইপিএল ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৪৪৮৪ রান। অবিশ্বাস্য ভাবে তাঁর স্ট্রাইকরেট ১৫০ এর ও বেশি।

  • গৌতম গম্ভীর (ভারত): অধিনায়ক

আমাদের একাদশের অধিনায়ক কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাবেক এই অধিনায়ক। আইপিএলে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে উত্থানের পিছনে গম্ভীরের বিশাল অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর নেতৃত্বে দুইবার আইপিএলের শিরোপা জিতে কলকাতা। আইপিএলে তিনি মোট ১৫৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪২১৭ রান।

  • সুরেশ রায়না (ভারত)

চেন্নাই সুপার কিংসের অন্যতম সেরা পারফর্মার সুরেশ রায়না। এছাড়া গুজরাট লায়ন্সের হয়েও দুই বছর অধিনায়কত্ব করেছেন এই ক্রিকেটার। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং তাঁকে এই আসরের সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে। তিনি আইপিলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের একজন। মোট ১৯৩ ম্যাচে আইপিএলে তাঁর সংগ্রহ ৫৩৬৮ রান।

  • ঋশাভ পান্ত (ভারত)

একাদশের সবচেয়ে তরুণ ক্রিকেটার ঋষাভ পান্ত। অল্প সময়েই এই আসরে নিজেকে সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন তিনি। শেষ কয়েকটি সিজনেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শির্ষে ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। বর্তমানে তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের তুরুপের তাস। মোট ৫৪ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৭৩৬ রান। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই রান তিনি করেছেন ১৬২ এর অধিক স্ট্রাইকরেটে।

  • সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার আইপিএলের দুইটি দলের হয়ে খেলেছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলেন। দুই দলেই ব্যাটে-বলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। আইপিএলে তিনি খেলেছেন মোট ৬২ টি ম্যাচ। সেখানে ব্যাট হাতে করেছেন ৭৪৬ রান এবং বল হাতে নিয়েছেন ৫৯ উইকেট। বিশেষ করে মারকাটারি এই লিগেও তাঁর ইকোনমি রেট মাত্র ৭.৪৬।

  • রবীন্দ্র জাদেজা (ভারত)

ভারতেই এই অলরাউন্ডার আইপিএল খেলেছেন চেন্নাইয়ের হয়ে। তিনি ছিলেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক ধোনির বোলিং এর মূল অস্ত্র। যদিও ব্যাট হাতেও তাঁর  বলার মত পারফরমেন্স রয়েছে। জাদেজা আইপিএলে ম্যাচ খেলেছেন মোট ১৮৪ টি। সেখানে ব্যাট হাতে করেছেন ২১৫৯ রান এবং বল হাতে নিয়েছেন ১১৪ উইকেট।

  • কুলদীপ যাদব (ভারত)

আমাদের একাদশের আরেকজন তরুণ ক্রিকেটার এই চ্যায়নাম্যান বোলার। এই বোলার নেটে শচীন টেন্ডুলকারকে গুগলিতে পরাস্ত করে প্রথম আলোচনায় আসেন। যদিও মুম্বাইয়ের হয়ে তিনি কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে কলকাতার হয়ে খেলেন বোলার। আইপিএলে খেলা মোট ৪৫ ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ৪০।

  • মিশেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া)

এই মুহুর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস বোলার মিচেল স্টার্ক। যদিও আইপিএলে তিনি মাত্র দুইটি আসর খেলেছেন। তবে সেই দুই আসরেই আইপিএল তাঁর অগ্নিঝড়া বোলিং দেখেছে। মোট ২৭ ম্যাচে খেলে তুলে নিয়েছেন ৩৪ টি উইকেট।

  • জহির খান (ভারত)

ভারতের এই পেস বোলিং স্টার আইপিএলে তিনটি দলের হয়ে খেলেছেন। সেগুলো হলো মুম্বাই, দিল্লি ও বেঙ্গালোর। আইপিএলে তাঁর শুরুটা খুব ভালো না হলেও পরে তিনি তাঁর আসল রূপে ফিরে এসেছেন। মোট ১০০ টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১০২ উইকেট।

  • মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের এই কাটার মাস্টারের আইপিএল সফর শুরু হয় সাইনরাইজার হায়দ্রাবাদের হয়ে। হায়দ্রাবাদের শিরোপা জয়ের পিছনে এই পেসারের রয়েছে বিশাল অবদান। পরবর্তীতে তিনি মুম্বাইয়ের হয়েও খেলেন। আইপিএলে তিনি মোট ম্যাচ খেলেছেন ২৪ টি। সবমিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে উইকেট সংখ্যা ২৪ টি।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...