নতুন বল হাতে যদি এক প্রান্তে থাকেন প্যাট কামিন্স, অন্য প্রান্তে জশ হ্যাজেলউড, আর সুইংয়ের অস্ত্র নিয়ে মিচেল স্টার্ক, তাহলে বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপই পরীক্ষার মুখে পড়তে বাধ্য। তবে এই পেস ত্রয়ীকে সামলানোর জন্য বাংলাদেশেরও ব্যাটিং ত্রয়ী প্রস্তুত।
প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রায় পূর্ণশক্তির বোলিং আক্রমণ ফিরে পেয়েছে। অধিনায়ক কামিন্স ও হ্যাজেলউড ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। মিচেল স্টার্কও রয়েছেন স্বাভাবিক ছন্দে। দীর্ঘদিন পর এই তিন পেসারকে একসঙ্গে পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ইউনিট আবারও ত্রাস ছড়াতে প্রস্তুত।
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও রয়েছে অভিজ্ঞতার ভরসা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজন। কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস গড়ার মানসিকতা এবং দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার সামর্থ্য তাঁকে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত করেছে। নতুন বল সামলে ইনিংস বড় করার দায়িত্বটা অনেকটাই থাকবে তাঁর কাঁধে।

অন্যদিকে মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা তো থাকছেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কঠিন পরিস্থিতি সামলেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও তাঁর ধৈর্য আর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। প্রতিপক্ষের পেসারদের ক্লান্ত করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার ক্ষমতা মুশফিক আগেও দেখিয়েছেন।
আর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর তো লিটন দাসের প্রত্যাবর্তন। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে তিনি আবার টেস্ট দলে ফিরেছেন। সময়মতো তাঁর ফিট হয়ে ওঠা বাংলাদেশের ব্যাটিংকে বাড়তি শক্তি দিয়েছে। লিটনের স্বাভাবিক স্ট্রোকপ্লে, বাউন্স সামলানোর দক্ষতা এবং কাউন্টার অ্যাটাকের মানসিকতা অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নিশ্চিতভাবেই কামিন্স-হ্যাজেলউড-স্টার্কের ত্রয়ী বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস আক্রমণ। তিনজনের ঝুলিতেই রয়েছে এক হাজারের বেশি টেস্ট উইকেটের অভিজ্ঞতা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে কেবল নাম নয়, দিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

বাংলাদেশ যদি ভালো শুরু পায় এবং শান্ত, মুশফিক ও লিটন নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দেখাতে পারেন, তাহলে এই লড়াই একপেশে নাও হতে পারে। বরং অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী পেস ত্রয়ী বনাম বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটিং ত্রয়ীর এই দ্বৈরথই হতে পারে পুরো সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্প।










