স্টার্কের বিষাক্ত স্পেলে ৬৪ রানে চুরমার বাংলাদেশ!

প্রথম টেস্টে যে দুঃস্বপ্ন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে উপহার দিয়েছিল, ম্যাকায়ের সকালটা যেন তারই প্রতিশোধ নিতে বেছে নিলেন মিচেল স্টার্ক। ডারউইনের সেই লজ্জা একা কাঁধে তুলে মুছে ফেলার শপথ যেন নিয়েই নেমেছিলেন বাঁহাতি এই তারকা

প্রথম টেস্টে যে দুঃস্বপ্ন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে উপহার দিয়েছিল, ম্যাকায়ের সকালটা যেন তারই প্রতিশোধ নিতে বেছে নিলেন মিচেল স্টার্ক। ডারউইনের সেই লজ্জা একা কাঁধে তুলে মুছে ফেলার শপথ যেন নিয়েই নেমেছিলেন বাঁহাতি এই তারকা, আর প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে লিখে ফেললেন ইতিহাসের পাতা — বাইশ বছর পর হান্নান সরকারের পাশে বসে গেলেন তিনি, প্রথম বলে উইকেট হারানো বাংলাদেশি ওপেনার হিসেবে। তারপর যা হলো, তা রীতিমতো এক ধ্বংসযজ্ঞ। মাত্র বাইশ বলের ভেতর পাঁচ উইকেট তুলে নিলেন স্টার্ক, বাংলাদেশ তখন ১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে কাঁপছে।

প্রথম ছয় ব্যাটারের কেউই ছুঁতে পারলেন না দুই অঙ্কের ঘর, তার মধ্যে চারজন ফিরলেন খাতা না খুলেই। হাসান মাহমুদ আর মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেন বটে, কিন্তু লাঞ্চের পর ফিরেই আবার সেই একই পথ ধরলেন হাসান মাহমুদ, যদিও লড়াই করে দশ রান তুলে নিলেন তিনি।

এরপর শেষ জুটিতে যেন খানিকটা আত্মমর্যাদা ফিরে পেল বাংলাদেশ — তাইজুল ইসলাম আর শরিফুল ইসলাম, দুজনেই পেরোলেন দুই অঙ্কের ঘর। শরিফুল নেমে খেললেন ঝোড়ো ১৯ বলে ১৪ রানের ইনিংস, তিনটি বাউন্ডারিতে সাজানো সেই ইনিংসই দিনের সবচেয়ে সাহসী ব্যাটিং, আর অন্যপ্রান্তে ২৬ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন তাইজুল — শেষ উইকেট জুটিতে যোগ করলেন ২৫ রান, যা এদিন বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।

কামিন্সও যোগ দিলেন স্টার্কের সঙ্গে ধ্বংসযজ্ঞে, একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ হয়তো নিজেদের সর্বনিম্ন ইনিংসের রেকর্ডটাই ভেঙে ফেলবে। কিন্তু ৪৩ রানের সেই পুরনো লজ্জা থেকে শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল বাংলাদেশ — যদিও ৬৪ রানে অলআউট হয়ে আজ নিজেদের চতুর্থ সর্বনিম্ন ইনিংসের তালিকায় নাম লেখাল তারা।

দশ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট — স্টার্কের এই স্পেল যেন একাই বলে দিচ্ছে কতটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ। ডারউইনে যে বোলিং আক্রমণ ইতিহাস গড়েছিল, ম্যাকায়ের এই বিধ্বস্ত দুপুরে তাদের সামনেই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যদি বোলাররা হাল না ধরেন তাহলে অস্ট্রেলিয়ার রানের মহাসাগরে ডুবে ইনিংস ব্যবধানে হারের গ্লানি ঠেকাতে পারবে তো বাংলাদেশ?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link