ইনজুরিতে ভেঙে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিকল্পনা!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে বাংলাদেশের বড় প্রতিপক্ষ ইনজুরি। একের পর এক দু:সংবাদে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। দলের চার গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটে ভুগছেন। কেউ দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন, কেউ স্ক্যান রিপোর্টের অপেক্ষায়, আবার কেউ ফিরতে চাইছেন ফিটনেস টেস্টের বাঁধা পেরিয়ে।

সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা লিটন দাসকে ঘিরে। বাংলাদেশের টেস্ট দলের অন্যতম ভরসার এই ব্যাটার এখন সিঙ্গাপুরে। তাঁর স্ক্যান করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই জানা যাবে, তিনি কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন এবং অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে আদৌ ফিরতে পারবেন কি না।

একইভাবে অপেক্ষা বাড়ছে গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানাকেও নিয়ে। সাইড স্ট্রেইনের চোটে ভুগছেন এই তরুণ পেসার। তিনিও স্ক্যান রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন। সেই রিপোর্টই বলে দেবে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে কি না।

বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের অবস্থাও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফিটনেস টেস্টে উৎরে গেলেই কেবল আবার বোলিং শুরু করার অনুমতি পাবেন। অর্থাৎ, তার ফেরাও এখন নির্ভর করছে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার ওপর।

চোটের তালিকায় আছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। দ্য হান্ড্রেডে খেলার সুযোগ থাকলেও ফিটনেস সমস্যার কারণে সেই আসরে নামা হয়নি বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি পেসারের। এখন তাকেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য। লাল বলের ক্রিকেটে তিনি না খেললেও এই মুহূর্তে তাঁর ঝুঁকিও বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আরও বেশি। আগামী আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যাবে বাংলাদেশ। ২০২৫-২০২৭ আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে, চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ২২ থেকে ২৬ আগস্ট দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট হবে ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।

অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে এমনিতেই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ কম নয়। তার ওপর যদি দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়, তাহলে সেই লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link