মিশরের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শেষটা অন্তত জয় দিয়ে রাঙালো ব্রাজিল। কিন্তু এই জয় কি সত্যিই আত্মবিশ্বাসের রসদ, নাকি আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুর্বলতার এক প্রলেপ?
২০২৬ সালে ব্রাজিল খেলেছে চারটি ম্যাচ। জয় তিনটিতে, হার কেবল ফ্রান্সের বিপক্ষে। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ ও পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়াটা চোখে পড়ার মতো। পরিসংখ্যান বলছে ব্রাজিল ফর্মে আছে। কিন্তু মাঠের ফুটবলে অগোছালো রক্ষণ ও ফিনিশিংয়ের দৈন্যদশা কি ভুলে যাওয়ার মতো?
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রাটা শুরু হবে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিপক্ষে। শক্তিমত্তায় মরক্কো স্বাভাবিকভাবেই বেশ পরিণত। ব্রাজিলের রক্ষণভাগ মরক্কোর ক্ষিপ্রগতির সামনে কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই ম্যাচে ওয়েসলির গ্রোইন ইনজুরি নি:সন্দেহে আরও দুশ্চিন্তায় ফেলল সেলেসাওদের।

মার্কুইনহোসের মতো অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সও যদি আগের মতো নড়বড়ে থাকে, তবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে গেলেও আবারও ইউরোপিয়ান দলের থেকে পরাজয়ের গ্লানি মিলতে পারে সেলেসাওদের।
আক্রমণভাগে গোল মিসের প্রবণতা এখনো প্রকট। মিশরের বিপক্ষে প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ মিস করেছেন ইগোর থিয়াগো। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাঁর এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা বড় ম্যাচগুলোতে দলকে চাপে ফেলবে। এই অবস্থায় এন্ড্রিকের মতো তরুণ তুর্কির ওপর নির্ভরতাই দলের গভীরতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইউরোপীয় জায়ান্টদের বিপক্ষে কেবল ব্যক্তিগত ঝলকে ম্যাচ জেতা এখন প্রায় অসম্ভব।
ইতিহাস সাক্ষী, বড় টুর্নামেন্টে ইউরোপীয় বাধা টপকানোই এখন ব্রাজিলের জন্য এক অলিখিত অভিশাপ। বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই ইউরোপীয় দলের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার যে ট্র্যাজেডি, তা এবারও কাটবে কি না – তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।












