রেকর্ড পাঁচবার বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিল সবসময় এসে থেমে যায় নরওয়ের সামনে। ফুটবল ইতিহাসের এ এক আশ্চর্য ঘটনা, যেখানে সাম্বা জাদুও বারবার থেমে যায় ভাইকিংসদের হুঙ্কারের সামনে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় এবার সেই প্রতিশোধ নেওয়ার পালা সেলেসাওদের জন্যে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই দলের চারবারের দেখায় দুইবার জয়োৎসব করেছে নরওয়ে, আর বাকি দুইবার মাঠ ছাড়তে হয়েছে ড্র নিয়ে। বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো সেলেসাওরা কখনোই নরওয়ের দুর্গ ভাঙতে পারেনি। অপরাজেয় থাকার এই অনন্য রেকর্ড নিয়ে নরওয়ে যেন ব্রাজিলের জন্য এক আজন্ম ধাঁধার নাম।
১৯৮৮ সালে প্রথম মুখোমুখি হওয়া এই দুই দল বিশ্বকাপে একে অন্যের বিপক্ষে খেলে ১৯৯৮ সালে। ব্রাজিল সেবার ফাইনাল খেললেও গ্রুপপর্বের দেখায় নরওয়ের কাছে হারে ২-১ গোলে। এরপর ২০০৬ সালের এক প্রীতি ম্যাচে একসাথে মাঠে নামে দুই দল। সেবারের যাত্রায় ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।

এটুকুতে কার্যত বোঝা যায় না, তবে পরিসংখ্যান সত্যিই নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জন্য একদমই পক্ষে নেই। নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে একাধিকববার খেলে ব্রাজিলের কোনো জয় নেই।
ইতিহাসে মাত্র তিনটা দলের বিপক্ষে জয়ের চেয়ে ব্রাজিল ম্যাচ হেরেছে বেশি। এর মধ্যে নরওয়ে ছাড়া বাকি দু’টো দল হল ফ্রান্স ও হাঙ্গোরি। ফ্রান্সের সাতটি জয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ছয়টি। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির বিপক্ষে তিনটা হেরে একটাতে জিতেছে ব্রাজিল। কিন্তু, নরওয়ের বিপক্ষে একটাও জয় নেই। তবে, আশার ব্যাপার হল ২০ বছর দলটির বিপক্ষে খেলেনি ব্রাজিল।
অবশেষে দুই দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি। এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে ভাগ্য নির্ধারণ হবে দুই দলের। ব্রাজিল চাইবে তাদের ইতিহাসের প্রথম জয়ের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে দেখছে এক নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।

ব্রাজিল এবার বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছে তাদের বহুকাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ জয়ের মিশন নিয়ে। কিন্তু সেই সোনালী ট্রফি ছোঁয়ার পথে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা এখন আর্লিং হাল্যান্ডের নরওয়ে। তরুণ এই গোলমেশিনের ক্ষুরধার ফর্ম নরওয়ের ডেরায় যোগ করেছে এক অবিশ্বাস্য শক্তির জ্বালানি।
ভিনিসিয়াস জুনিয়র আর ব্রুনো গুইমারেসদের দারুণ ফর্মে ব্রাজিলও আছে ছন্দের মাঝে। দলের প্রাণভ্রমরা নেইমার জুনিয়রের মাঠে নামাও সেলেসাওদের দেয় আলাদা প্রেরণা। এসবের মাঝে ব্রাজিল কি পারবে নরওয়ের বাধা পেরোতে নাকি ভাইকিংরা লিখবে নতুন গল্প? সেই উত্তর তোলা রইলো শেষ ষোলোর ম্যাচের জন্যে।










