বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে আসা স্পেন কি তবে আটকে যাবে নকআউটের শুরুতেই? এই প্রশ্নটাই এখন লক্ষ কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে। ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় নিয়ে বিশ্বমঞ্চে এলেও, স্পেনের সাজানো সংসারে এসে হাজির হয়েছে এক বিষফোঁড়া। আর সেই বিষফোঁড়ার নামঃ দলে কোনো নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরার না থাকা।
গ্রুপপর্বের লড়াইয়ে এই গোল খরাতেই পুড়তে হয়েছে সর্বশেষ ইউরোর শিরোপা ঘরে নেওয়া স্পেনকে। কেপ ভার্দের ডিফেন্সিভ দেয়াল ভাঙতে না পেরে পয়েন্ট হারানোর পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। যদিও সৌদি আরবের জালে চার গোল দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল স্পেন, কিন্তু উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আবারো ফিরে আসে সেই পুরোনো রোগ।

উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতলেও স্পেনের চেনা ফুটবল যেন ছন্দ হারিয়েছিল। মাঠজুড়ে সিংহভাগ সময় বলের দখল রেখেও বক্সের ভেতর চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। পুরো ম্যাচে জালের উদ্দেশ্যে মাত্র একবারই অন টার্গেটে শট নিতে পেরেছিল স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা।
বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় পরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও কোনো ধারালো ‘নাম্বার নাইন’ না থাকাটাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় বাধা। ফেরান তোরেস, মিকেল ওয়ারজাবাল কিংবা অ্যালেক্স বায়েনাদের কেউ-ই এই গোল-খরা সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান হয়ে উঠতে পারছেন না। রণকৌশল জানা থাকলেও গোল করার কারিগরের বড্ড অভাব।

সামনেই অপেক্ষা করছে অস্ট্রিয়া নামের এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। নকআউটের এই মরণ-বাঁচন মঞ্চে আর কোনো ভুল করার সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়, এই গোল করার ব্যর্থতা কাটিয়ে স্পেন কি পারবে বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে যেতে, নাকি নকআউটের প্রথম বাধাতেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে তাদের সোনালী স্বপ্ন?










