বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষরা নাকি তুলনামূলক সহজ। নিন্দুকেরা তাই বলে। কেপ ভার্দে সম্ভবত বিষয়টাকে খুব সিরিয়াসলিই নিয়ে ফেলেছিল। আর্জেন্টিনা ভাবতেও পারেনি এমন অভাবনীয় এক লড়াই নিয়ে বুকে ক্ষোভটা জমিয়ে রেখেছিল আফ্রিকার পুঁচকে এই দল।
বিশ্বকাপটা ছিল তাঁদের জন্য স্রেফ উপভোগের মঞ্চ। সবাই কম বেশি অখ্যাত লিগেই খেলেন। গ্রুপ পর্ব ভয়াবহ কঠিন, এখান থেকে জান নিয়ে বেঁচে আসাই তো দুস্কর। কিন্তু, এই বাস্তবতাকে বারবার বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে তাঁরা।
বিশ্বকাপে র্যাংকিংয়ের ৬৪ তম এই দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের চার ম্যাচের নব্বই মিনিটে কোনো দলই জিততে পারেনি। একবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দেয় তাঁরা। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের জালে দুবার বল জড়িয়ে ড্র করে। গেল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারানো একমাত্র দল সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে।

মাথা উঁচু করেই এসেছিল ৩২ দলের দ্বিতীয় রাউন্ডে। সামনে প্রতাপশালী আর্জেন্টিনা, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ভয় পায়নি কেপ ভার্দে। বুক চিতিয়ে লড়েছে। দু’বার ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে কাম ব্যাক করেছে, লিওনেল মেসির দলকে বারবার হতাশায় ডুবিয়েছে। আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ অকার্যকর করে দিয়েছে।
শুধু রক্ষণ দিয়ে নেগেটিভ ফুটবল খেলে জিততে চায়নি কেপ ভার্দে। তাঁরা আক্রমণ করেছে। পাল্টা আক্রমণ করেছে। দৈত্যর খাঁচা ভেদ করে শেষ মারণ কামড়টা বসিয়ে ফেলতে পারত হয়ত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্টিনেজের এক দর্শনীয় সেভ তাঁদের কপাল পোড়ায়।
আর্জেন্টিনা ম্যাচ শেষে জিতলেও, কেপ ভার্দে হারেনি। র্যাংকিংয়ের সেই একটা কোণায় পড়ে থাকা দলটা এমন খেলতে পারে – সে ভেবেছিল কবে। বিশ্বকাপ আসরে বড় দলের সাথে ব্যবধান কমিয়ে কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দিল, সুযোগ পেলে চ্যাম্পিয়নদের চোখ রাঙিয়ে দিতে তাঁরাও জানেন।











