পারফরম্যান্সের ব্যর্থতা নাকি ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্বের অভাব?

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশ যখন নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে করুণ দিন দেখছিল, সেই রাতেই খেলোয়াড়রা উৎসব করছিলেন ফিফা বিশ্বকাপের।

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশ যখন নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে করুণ দিন দেখছিল, সেই রাতেই খেলোয়াড়রা উৎসব করছিলেন ফিফা বিশ্বকাপের।

হারারেতে ইনিংস ও ৮৫ রানের লজ্জার হার। দীর্ঘদিন পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন তিক্ত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৪০, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫—দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যর্থতা ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশ দলকে।

কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু এই হার ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিও তৈরি করেছে বিতর্ক। জিম্বাবুয়ে সফরেই ব্রাজিলের ম্যাচ দেখার পর জয় উদযাপন করে হাসিমুখে গ্রুপ ছবি পোস্ট করেছিলেন বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। ম্যাচ হারের পর সেই ছবিই ঘুরে ফিরে এসেছে সমালোচনার কেন্দ্রে।

তবে প্রশ্নটা ছবি তোলা বা ফুটবল দেখা নিয়ে নয়। প্রশ্নটা সময়, অগ্রাধিকার আর পেশাদারিত্ব নিয়ে। বিদেশের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ চলাকালে, যখন দল টানা ব্যর্থতার মধ্যে থাকে, তখন এমন মুহূর্ত স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের চোখে ভিন্নভাবে ধরা পড়ে।

এমন আলোচনা অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন নয়। ক্রিকেটারদের ফিটনেস, খাদ্যাভ্যাস ও শৃঙ্খলা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বিসিবির প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালও ক্রিকেটারদের খাদ্যাভ্যাস ও পেশাদার মানসিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। পরে খেলোয়াড়দের খাবার ব্যবস্থাপনায় আরও সরাসরি ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানায় বিসিবি।

তবে সত্যিটা হলো, বিশ্বের বড় বড় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনেও এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। কিন্তু তারা মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন বলেই সেসব নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও মূল পার্থক্যটা সেখানেই। যখন পারফরম্যান্স আসে না, তখন ব্যক্তিগত মুহূর্তও জনসমালোচনার অংশ হয়ে যায়।

একজন চুক্তিবদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবন অবশ্যই তার নিজের। কিন্তু সিরিজ চলাকালে সমর্থকদের প্রত্যাশাও থাকে—দল যেন পেশাদার শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং সেই শৃঙ্খলার প্রতিফলন  যেন দেখা যায় মাঠের পারফরম্যান্সে।

Share via
Copy link