আলভারেজ চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায়, প্রথাগত কোনো ‘নাম্বার নাইন’ ছাড়া একটা পুরো মৌসুম কীভাবে পার করবে বার্সা, তা নিয়ে চলছিল বিস্তর হিসাব-নিকাশ। কিন্তু লিগের শুরুতেই এলচেকে ৫-০ গোলে উড়ানোর পর অ্যাথলেটিক ক্লাবের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
হুট করে কোনো স্ট্রাইকার না এনে হ্যান্সি ফ্লিক মূলত ‘ইনসাইড ফরোয়ার্ড’ এবং ‘লেট বক্স অ্যাটাক’ কৌশলে পুরো গোলস্কোরিং মেকানিজম বদলে দিয়েছেন।
প্রথাগত উইঙ্গারদের মতো রাফিনহা এখন কেবল টাচলাইনে আটকে থাকেন না। ফ্লিকের সিস্টেমে তিনি কিছুটা হাফ স্পেসে ভেতরের দিকে অপারেট করেন। কোনো স্থায়ী স্ট্রাইকার বক্সে না থাকায়, রাফিনহা উইং থেকে কাট ইন করে সরাসরি স্ট্রাইকারের খালি জায়গায় রান নিচ্ছেন।

ফেরমিন লোপেস যখন আক্রমণের কেন্দ্রে খেলছেন, তিনি প্রথাগত নয় নম্বরের মতো প্রতিপক্ষের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে থাকেন না। তিনি নিচে নেমে পজেশন বজায় রাখতে মাঝমাঠে সংযোগ তৈরি করেন।
আর এতেই অ্যাথলেটিকের ডিফেন্ডাররা বিভ্রান্ত হয়ে ওপরে উঠে এলে যে স্পেস তৈরি হয়, সেখানে সেকেন্ড হিটার হিসেবে শেষ মুহূর্তে বক্সে ঢুকে পড়েন ফেরমিন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা উইঙ্গার বা মিডফিল্ডারদের মার্ক করতে গিয়ে ফেরমিনকে ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হয়, যা তাঁর থেকে নিয়মিত গোল এনে দিচ্ছে।
ফ্লিক প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনকে ছড়াতে দুই উইঙ্গারকে হাই অ্যান্ড ওয়াইড পজিশনে রাখেন, আবার প্রয়োজনে রাফিনহা-ফেরমিনদের ফ্রি রোমিং করার স্বাধীনতা দেন। নয় নম্বর না থাকায় মাঝমাঠে অতিরিক্ত একজন প্লেয়ার যুক্ত করার সুবিধা পাচ্ছেন ফ্লিক।

পেদ্রি বা রাফিনহারা মাঝমাঠে ওভারলোড তৈরি করে ফাইনাল থার্ডে থ্রু পাস বাড়ানোর স্পেস পান, আর বক্সে সেই পাস রিসিভ করার জন্য একের অধিক খেলোয়াড় ঢুকে পড়েন।
তবে এই মৌসুমে বার্সেলোনার আসল পরিবর্তন আক্রমণভাগে নয়, দরকার ছিল রক্ষণে। আগে গোল করার পর কাউন্টার অ্যাটাকে গোল খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হতো। রাইট ব্যাক পজিশনে এরিক গার্সিয়ার সুশৃঙ্খল ডিফেন্ডিং কুন্দের অফফর্ম বুঝতে দিচ্ছে না। আর সবচেয়ে বড় মাস্টারস্ট্রোক – ডিফেন্সিভ মিডের গুরু রড্রিকে আনা। পিভটে রড্রির উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাক মাঝমাঠেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
অবশ্য দিনশেষে দীর্ঘ মৌসুমের কথা ভাবলে একজন অরিজিনাল নাম্বার নাইনের গুরুত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিরেট বক্সে কিংবা টাইট ডিফেন্স ভাঙতে একজন প্রোপার নাইন সর্বদাই দলের তাসের টেক্কা।

তবে বার্সেলোনার মূল মাথাব্যথা কখনোই গোল করা ছিল না, সমস্যা ছিল রক্ষণের লিকেজ ও কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকানো। রাইট ব্যাকে এরিক গার্সিয়ার দায়িত্বশীল পারফর্ম্যান্স আর ডিফেন্সিভ মিডে রড্রির ইস্পাতদৃঢ় উপস্থিতি সেই দীর্ঘদিনের ডিফেন্সিভ দুর্বলতা দূর করতে সক্ষম।











