মরণ গুগলির বিপক্ষে সেই ২০ মিনিট

যতদিন বেঁচে ছিলেন জীবনের জয়োগান গেয়ে চলেছিলেন, বলা হয় – ক্রিকেটারদের মধ্যে তাঁর মত করে নাকি জীবনটা উপভোগ করতে আর কেউ পারেনি। তবে, সেই জীবনের উৎসবটা থেমে গেছে। ক্রিকেট পাড়ায় শোকের মাতম। কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান তারকা লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন যে হুট করেই চলে গেলেন ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে। ওয়ার্নের মৃত্যুতে হতবাক পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ৫২ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই কিংবদন্তি, ২০২২ সালে।

মূলত ছুটি কাটাতে থাইল্যান্ড ভ্রমণে গিয়েছিলেন ওয়ার্ন ও তাঁর বন্ধুরা। সেখানে কোহ সামুইয়ের বিলাসবহুল সামুজানা ভিলায় ছিলেন তারা। বিকেল পাঁচটায় ডিনারের আগে ঘুরতে বের হবার জন্য ওয়ার্নকে ডাকতে যখন বন্ধুরা রুমে নক করলো। ওয়ার্ন সবসময়ই নাকি ঘড়ি ধরে চলতেন।

কিন্তু, কয়েকবার ডাকাডাকির পরেও ভেতর থেকে কোনো জবাব নেই! সন্দেহের বসে রুমে ঢুকতেই দেখলো পড়ে আছেন ওয়ার্ন, সাড়াশব্দ নেই। চার বন্ধু মিলে প্রায় ২০ মিনিট ধরে তাঁকে বাচানোর চেষ্টা করেন! সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেও সফল হননি বন্ধুরা। অ্যাম্বুলেন্স আসা অবধি ওয়ার্নকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া ছিলো না তাঁর।

এরপর ভিলা থেকে ২০ মিনিট দূরত্বে থাই ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় ওয়ার্নকে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাবেক এই স্পিনারকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তাররা। এই বিশটা মিনিট জীবনের সাথে লড়াই করেও পারেননি। মরণ গুগলির কাছে পরাস্থ হয়েছেন, যেভাবে তিনি ক্যারিয়ারজুড়ে পরাস্থ করে গেছেন নামকরা সব ব্যাটসম্যানদের।

থাইল্যান্ড পুলিশের তথ্যমতে শেন ওয়ার্নের মৃত্যুতে সন্দেহজনক কিছুই মেলেনি, স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে এই কিংবদন্তির। পুলিশের তথ্যমতে ওয়ার্ন সহ তার বন্ধুরা প্রত্যেকেই ছিলেন আলাদা আলাদা রুমে। তার বন্ধুরা বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ঘুমে ছিলেন এবং পরবর্তীতে সবাই একসাথে হয়ে ওয়ার্নকে না পাওয়ায় রুমে ডাকতে গিয়ে দেখা যায় ওয়ার্ন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

ওয়ার্নের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে জানানোর পর পরিবারের পক্ষ থেকে সাময়িক গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওয়ার্নের ম্যানেজার ফক্স স্পোর্টসকে বিষয়টি জানালে পরবর্তীতে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এই কিংবদন্তির মৃত্যুর খবর।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ওয়ার্নের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। আমি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। ওয়ার্নের বডি অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর ব্যাপারে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’ এছাড়া মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দক্ষিণ পাশের স্ট্যান্ডের নাম শেন ওয়ার্নের নামে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

ফক্স ক্রিকেটের কাছে ছুটি কাটানোর আগে এক বছরের ছুটি চেয়েছিলেন ওয়ার্ন। কিন্তু পরে তিন মাসের ছুটি নেন তিনি। সেই ছুটি কাটাতে একদিন আগে রাতে থাইল্যান্ডে পৌঁছান ওয়ার্ন ও তার বন্ধুরা। পরদিন সাবেক কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার রডনি মার্শের মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়ে টুইটও করেন ওয়ার্ন। আর তার মাত্র ১২ ঘন্টা পরেই তিনি নিজেই সঙ্গি হলেন রডনির!

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক ওয়ার্ন। টেস্টেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। এক বছরে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারের রেকর্ডও এই কিংবদন্তির দখলে। সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনার তথা সেরা স্পিনার হিসেবে মানা হয় এই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তিকে। ওয়ার্নের মৃত্যুতে ক্রিকেট বিশ্ব হারালো সর্বকালের সেরা এক তারকাকে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link