শান্ত-সিমন্স ম্যাজিকে যেভাবে হলো অজি বধ

ডারউইনে এই অজি বধের গল্প যেন বাংলাদেশিদের ক্রিকেটীয় মেধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য রুখতে গুরু সিমন্স ও শিষ্য শান্তর এই দুর্দান্ত মাস্টারপ্ল্যান বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন আলোচনার অনুষঙ্গ হয়ে থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যেমন আছে, তেমনই মস্তিষ্কের কারসাজিও রয়েছে। যার কারিগর নাজমুল হোসেন শান্ত এবং কোচ ফিল সিমন্স। অধিনায়ক ও কোচের সেই ব্লুপ্রিন্ট কীভাবে বদলে দিল দৃশ্যপট? ফিরে দেখা যাক এই অভাবনীয় জয়ের নেপথ্য কাহিনীর দিকে।

শুরুটা হয়েছিল সাহসী এক সিদ্ধান্তে। রক্ষণাত্মক ঘরানা ভেঙে মাহমুদুল জয়ের বদলে  তানজিদ তামিমকে ওপেনিংয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন সিমন্স। আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের সেই বাজি ধরে দারুণভাবে নিজের কোচিং কারিকুরিই যেন দেখান এই ক্যারিবীয় কোচ। প্রথম ইনিংসেই তানজিদ ক্যারিয়ারের মেইডেন টেস্ট সেঞ্চুরি করে গড়ে দেন বাংলাদেশের ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহের ভিত!

বোলিং লাইনআপে সিমন্সের খালেদ আহমেদের পরিবর্তে এবাদত হোসেনকে দলে রাখা তুরুপের তাস হয়ে ওঠে। প্রথম ইনিংসে ল্যাবুশেইন আর অ্যালেক্স ক্যারির মতো হেভিওয়েট ব্যাটারদের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে এবাদত শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেন অস্ট্রেলিয়াকে।

এদিক হাসান মাহমুদকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের কৌশলকেও আধুনিক ক্রিকেটের এক নিখুঁত পাঠ বলা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের বুদ্ধিমত্তার চূড়ান্ত প্রমাণ দেন বাংলাদেশ স্কিপার শান্ত।

প্রথম ইনিংসে বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৭ ওভারে ৫৫ রানে ছয় উইকেট তুলে নেন হাসান, দেন তিনটি মেইডেন ওভার। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান মাহমুদের ওপর চাপ কমিয়ে দেন শান্ত। ছোট ছোট স্পেলে তাঁকে বল করিয়ে সতেজ রাখেন অধিনায়ক। ফলস্বরূপ, দ্বিতীয় ইনিংসে অজি ব্যাটিং লাইনআপে একাই ধস না নামালেও ট্রাভিস হেড, জ্যাক ওয়েদারেল্ড এবং সেঞ্চুরি হাঁকানো ক্যামেরন গ্রিনের মূল্যবান উইকেট শিকার করেন এই পেসার।

একইভাবে, প্রথম ইনিংসে অজি বোলারদের তোপ সামাল দিতে টেকনিক্যাল কারণে তাইজুল ইসলামের আগে হাসানকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তও শাপে বর হয়ে ওঠে। পেসারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি স্কোরবোর্ডে ৯২ বলে ১৪ রান যোগ করায় বাংলাদেশের ইনিংসটা আরেকটু দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে বাড়ে লিডটাও।

পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় প্রতিটা ডেলিভারির পর বারবার লিটন দাসের স্ট্যাম্পের কাছে এগিয়ে আসার কৌশলও অজিদের বেশ মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলে। একই ইনিংসে বোলিংয়ে ভ্যারিয়েশন নিশ্চিত করতে তাইজুলের ওপর গুরুত্ব কমিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে ৩৩ ওভার বল করান শান্ত। ফলাফল? ম্যাচের সর্বোচ্চ ছয়টি মেইডেন ওভারসহ ৬৬ রানে পাঁচ উইকেট তুলে বাংলাদেশের সামনে সহজ লক্ষ্য এনে দেন মিরাজ।

এক কথায়, ডারউইনে এই অজি বধের গল্প যেন বাংলাদেশিদের ক্রিকেটীয় মেধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য রুখতে গুরু সিমন্স ও শিষ্য শান্তর এই দুর্দান্ত মাস্টারপ্ল্যান বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন আলোচনার অনুষঙ্গ হয়ে থাকবে—এটাই স্বাভাবিক নয় কী?

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link