আপনি কি জানেন, টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে অবমূল্যায়িত পেস আক্রমণ কোন দলের? উত্তরটা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত নয়। অবিশ্বাস্য শোনালেও, আসলে সেই দলটার নাম বাংলাদেশ!
একসময় শুধু স্পিনকে কেন্দ্র করেই টেস্টে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেওয়ার ছক কষত বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ চেষ্টা করত ম্যাচ নিজেদের কবজায় রাখতে।
কিন্তু, সাম্প্রতিককালে দেশটি নিয়মিত টেস্টে খেলাচ্ছে তাঁদের সেরা পেসারদের। শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও খালেদ আহমেদের মতো বোলারদের সিমের মুখে যেকোনো বাঘা বাঘা দলের ব্যাটাররা এখন নাজেহাল হচ্ছেন। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গণে তাঁদের নিয়ে তেমন শোরগোল নেই বললেই চলে!

টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড। ইংল্যান্ডের পেস ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন জফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, ওলি রবিনসন, ব্রাইটন কাস ও সাকিব মাহমুদরা।
ভারতও পার করছে রূপান্তরের এক জটিল সময়। মোহাম্মদ সিরাজ, আর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ধুঁকতে থাকা ম্যান ইন ব্লুজ বোলিং লাইনআপকে পথ দেখাচ্ছেন শ্রীলঙ্কা সিরিজে। আর নিউজিল্যান্ডে ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, উইল ও’রোর্ক লাল বলের দীপ্তি ছড়াতে শুরু করেছেন সবে, তবে হেনরিই তাঁদের মধ্যে এগিয়ে আছেন।
এরপরও সব ছাপিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। লাল বলের ক্রিকেটে টাইগার পেসারদের চমৎকার এক কম্বিনেশন চোখে ধরা দিচ্ছে সম্প্রতি।

হাসান মাহমুদের ভয়ানক সুইং, নাহিদ রানার বিধ্বংসী গতি, শরিফুল ইসলামের নতুন বল ব্যবহারের কারিকুরি, কিংবা তাসকিন আহমেদের বারবার নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ার প্রয়াস টেস্টে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের পুনর্জাগরণের পথ দেখাচ্ছে। সাথে এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদের মতো দুর্দান্ত ব্যাকআপ তো রয়েছেই!
সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো, এই পেসাররা একে অপরের পরিপূরক। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত সিম মুভমেন্ট ও লেন্থের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট এনে দিতে পারে।
অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ জানেন দলের প্রয়োজনে কীভাবে উইকেট শিকার করতে হয়। শরিফুলের বাঁহাতি ভ্যারিয়েশন এনে দেয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চমৎকার সুযোগ, ম্যাকায়েতে অজিদের বিপক্ষে ৪৮ রানে সাত উইকেট তুলে নিয়ে তিনি সেটিই প্রমাণ করেছেন। আর তরুণ নাহিদ রানার বুলেট গতি ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরাতে বাধ্য।

তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হলো এই পুরো দলটির চমৎকার বয়সের প্রোফাইল। ৩০ বছর বয়সী তাসকিন বাদে বাকি সবার বয়সই ২৫ বা ২৫-এর নিচে। আর এখানেই অনন্যতা বাংলাদেশের পেস আক্রমণের! আবার এ কারণেই হয়তো অবমূল্যায়িত উপমহাদেশের এই পেসাররা!
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়া সফরের পর নভেম্বরে ফের দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর আগামী বছরের মে মাসে ঐতিহাসিক লর্ডসে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলবে টাইগাররা।
নিজেদের অবমূল্যায়িত পেস বোলিং অস্ত্রকে তাই আরেকটু শানিত করে নিলেই হয়তো বাংলাদেশ অবিস্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পারবে দর্শকদের! সঙ্গে জবাব দেওয়া যাবে সব অবমূল্যায়নেরও!











