‘সাইলেন্ট’ এবার সরব হোন

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা লম্বা সময় ধরে জেমি সিডন্স হয়ে ছিলেন।

জেমি সিডন্সকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার খুব আফসোস, সুযোগ পেলে তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু সুযোগটাই পেলেন না। কিন্তু রিয়াদ এই জায়গাটায় এগিয়ে গেলেন। তিনি সুযোগ পেলেন। কিন্তু সুযোগ পাওয়ার পর একটা প্রশ্ন তৈরি হলো, আসলেই কী রিয়াদকে নিয়ে করা আফসোস যথার্থ ছিলো।

রিয়াদকে নিয়ে আফসোসের শুরুটা সেই অভিষেক থেকেই। তিনি বল করতেন পার্ট টাইমার হিসেবে। তাতেই যা করতেন, আমরা ভাবতাম, নিয়মিত বোলিং পেলে আরও ভালো করবেন। তিনি ব্যাট করতেন ৭-৮ নম্বরে। সুনীল গাভাস্কার অবধি বললেন, তিনি বেস্ট নম্বর সেভেন। আমরা ভাবতাম, তিনি প্রমোশন পেলে অনেক কিছু করবেন। কিন্তু তা হলো না।

কালক্রমে রিয়াদ বোলিংটা প্রায় ছেড়ে দিলেন। ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেলেও সেরকম কার্যকর ইনিংস খেলতে পারছিলেন না।

রিয়াদকে নিয়ে আরেকটা আফসোস ছিলো, অধিনায়কত্ব। তিনি ছিলেন সেরা ‘হবু’ অধিনায়ক। ঘরোয়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তিনি দারুণ অর্জন করা একজন অধিনায়ক ছিলেন। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছিলো, তিনি হবেন সেরা জাতীয় দলের অধিনায়ক। সেটাও হলেন।

সেখানেও কী রিয়াদকে খুব সফল বলা চলে?

হ্যা, সর্বশেষ তিনটে সিরিজে তিনি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছেন। কিন্তু রিয়াদের অধিনায়কত্বে যেরকম আক্রমনাত্মক দল আমরা দেখতে চেয়েছি, তা কী পেলাম?

অনেক প্রশ্ন এখন রিয়াদকে নিয়ে। অনেকে তার একাদশে জায়গাকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। অনেকে তার ব্যাটিংকে প্রশ্ন করছেন-এমন গা বাচানো ব্যাটিং কেনো? আর এইসব প্রশ্নেরই উত্তর রিয়াদকে দিতে হবে এই বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপটা বাংলাদেশের জন্য এক মহা অভিযান। বাছাইপর্ব পার করে গ্রুপপর্বে গিয়ে একটা দুটো ম্যাচ জিতলেই হয়তো বাংলাদেশকে আমরা সফল বলবো। কিন্তু রিয়াদের জন্য চ্যালেঞ্জটা এর চেয়ে বড়। তাকে অধিনায়ক হিসেবে ন্যুনতম এই প্রাপ্তি এনে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে একটুও ছাড় রিয়াদ পাবেন বলে মনে হয় না।

তবে আসল চ্যালেঞ্জ খেলোয়াড় রিয়াদের।

তিনি টেস্ট এরই মধ্যে ছেড়ে দিয়েছেন। এখন টি-টোয়েন্টিতে নিজের জায়গাটা ধরে রাখা নিয়েও ভাবতে হবে তাকে। আগের সেই মারকুটে রিয়াদ ফিরে না এলে আরেকটা বিশ্বকাপ তার খেলা কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ, তাকে চ্যালেঞ্জ করার মত বেশ কিছু মারকুটে খেলোয়াড় এখন দলের আশেপাশেই আছে।

রিয়াদ ইতিমধ্যে নিজের মত দল সাজাতে গিয়ে কিছু নির্বাচকদের মতের বিরুদ্ধেও গেছেন বলে গুজব আছে। তাতে অন্তত একজন জনপ্রিয় খেলোয়াড় কাটা পড়েছেন। ফলে রিয়াদ যদি নিজের দল গঠনকে সঠিক বলে প্রমাণ না করতে পারেন, তাহলে তাকে বেশ জবাবদিহি করতে হবে বলেও অনুমান করা যায়।

তবে রিয়াদ খাটি ফাইটার, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। এই জায়গা থেকে সবকিছু নিজের পক্ষে আনার ক্ষমতা কারো থাকলে, সেটা রিয়াদেরই আছে। আশা করতে দোষ নেই যে, এই অবস্থা থেকে রিয়াদ ফিরে দাড়াবেন। আবার বিশ্বকাপে ঝড়ো কিছু ইনিংস খেলবেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। তাহলেই অন্তত প্রশ্নগুলো সব বন্ধ হবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link