কুলদ্বীপ যাদবের কাছ থেকে ভারতের ৩১৯ নম্বর টেস্ট ক্যাপ গ্রহণ করেন তিনি। সতীর্থদের অভিনন্দন আর উত্তেজনার মাঝে মাঠে নেমে যে বোলিং নৈপুণ্য দেখালেন, তা দীর্ঘকাল মনে থাকবে ক্রিকেট ভক্তদের। একদিকে অজিত আগরকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির আস্থার প্রতিদান দিলেন, অন্যদিকে বল হাতে আফগানদের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিলেন মুহূর্তেই।

শুধু বোলিংয়েই তাঁর জাদু সীমাবদ্ধ নয়, ব্যাট হাতেও যে তিনি কার্যকর, তা এদিন স্পষ্ট হয়েছে। প্রথম ইনিংসে নেমে ৪১ বলে ২৮ রানের এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে ছিল দুটি চোখ ধাঁধানো ছক্কা। দ্বিতীয় ইনিংসেও এক উইকেট নেন। দুই ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে অভিষেকেই ম্যাচ সেরা হওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি।
তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর ঘরোয়া ক্রিকেটের এক দীর্ঘ পথচলা। ২০২২-২৩ সালের রঞ্জি ট্রফিতে মাত্র ছয় ম্যাচে ৩৯ উইকেট নিয়ে সবার নজরে আসেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর মোট শিকার এখন ১২০টিরও বেশি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আঙিনাতেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন সুথার। ২০২৪ সালে আইপিএল অভিষেক হওয়ার পর ২০২৫ সালের মেগা নিলামে ৩০ লক্ষ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় গুজরাট টাইটানস। ২০২৬ সালের চলমান আইপিএল মৌসুমেও গুজরাটের হয়ে চারটি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি।

গঙ্গানগরের এক সাধারণ ছেলে থেকে আজ জাতীয় দলের ম্যাচ উইনার – মানব সুথারের এই রূপান্তরের গল্পটি যেন কেবল শুরুর ইঙ্গিত। মুল্লানপুরের মাঠে আজ যে নতুন সূর্য উদয় হলো, সেই আলোর ঔজ্জ্বল্য কতদূর পৌঁছাবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। অভিষেকের এই রঙিন মুহূর্তটি কেবল একটি সংখ্যার হিসেবে আটকে থাকবে না, বরং ভারতীয় স্পিন ইতিহাসের পাতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।











