শেষের কবিতা লেখা শেষ

সব গোলের শেষে, সব বীরত্বের শেষে জয় লেখা থাকে না। আর এই গল্প যে নেইমারের, ব্রাজিলের ইতিহাসে এমন দু:খী রাজপুত্র আর ক’জনই বা আছেন।

তিনি মাঠে নামবেন, একটা গোল করবেন। এই একটা দৃশ্য দেখার জন্যই তো শত কোটি ব্রাজিল ভক্ত অপেক্ষায় ছিল। নেইমার মাঠে নামলেন বটে। প্রথমবারের মত চলতি বিশ্বকাপে খেললেন নকআউট পর্বের ম্যাচ। গোলও করলেন।

কিন্তু, সব গোলের শেষে, সব বীরত্বের শেষে জয় লেখা থাকে না। আর এই গল্প যে নেইমারের, ব্রাজিলের ইতিহাসে এমন দু:খী রাজপুত্র আর ক’জনই বা আছেন।

গেল বিশ্বকাপ শেষেই তাঁর বিদায় ঘণ্টা লেখা হয়ে গিয়েছিল। ইনজুর জর্জর নেইমার পিএসজি থেকে আল হিলাল, সেখান থেকে ফিরেছিলেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে।

শত আঘাত, শত যন্ত্র, হাজারো নির্ঘুম রাত পারি দিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখেছিলেন আরেকটা বিশ্বকাপ খেলার। কোনোক্রমে ঠাই হল বিশ্বকাপ দলে।

ফিটনেস ফিরে পেতে একটু সময় নিলেন। এই শেষ ষোল থেকে লেখা হতে পারত নেইমারের পুনরুত্থানের গল্প। লেখা হতে পারত কোনো এক রাজকীয় উপাখ্যান। তবে, ফুটবল নামের গোলাকার চর্মগোলকের সবচেয়ে বড় সাধকের গল্পের শেষটায় তো বরাবরই স্রষ্টা ট্র্যাজেডিই লিখে রেখেছেন।

হলও তাই, নরওয়ের বিপক্ষে আবারও হারল ব্রাজিল। পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোল কোনো কাজেই লাগল না। আরেকবার চোখের জলের বিদায়।

গোলের আগে ওডেগার্ডকে চ্যালেঞ্জ করে হলুদ কার্ড পেলেন। ম্যাচে উত্তেজনা ছড়াল। দু’দলের ফুটবলারদের মধ্যে খানিক হাতাহাতিও হল। প্রচণ্ড কষ্টের মুহূর্তে মানুষ যেমন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তেমনটাই।

গোল করে নরওয়ের গোলরক্ষর ওরিয়েন নাইল্যান্ডকে কি যেন একটা বললেন। নাইল্যান্ড জবাবে হাসলেন, সেই হাসির কোনো জবাব নেই নেইমারের কাছে, তাঁর অনেক আগেই তাঁর ব্রাজিলকে জবাবশূন্য করে দিয়েছেন আর্লিং হাল্যান্ড নামের এক দানব।

Share via
Copy link