বিপদের আঁচটা শুরু থেকেই পেয়েছিল ব্রাজিল। ঘড়ির কাটায় তখন মিনিট তিন হবে। কেঁপে ওঠে ব্রাজিলের জাল। তবে ভাগ্যের পরিহাসে সে যাত্রায় গোল করেও স্কোরবোর্ডটা নীল থাকে। নেপথ্যে অফসাইড।
এরপর চলে ব্রাজিলের আক্রমণ, আর নরওয়ের গোল করতে না দেওয়ার শপথ। অবশ্য ১৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল, যদি না ভুলে যাওয়ার এক ভুল করতেন ব্রুনো গুইমারেস। অবশ্য তাঁর দোষের থেকে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়েন নাইল্যান্ডের গুণের কদরই বেশি হওয়া উচিত। এরপর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে সবকিছু। বিরতিতে যাওয়ার আগে ম্যাচ তখনও পায়নি কোনো গোলের স্বাদ।

বিরতি শেষে ফিরে এসেও বদলায়নি নরওয়ের পরিকল্পনা। বল ধরে রাখা, নিজেদের মধ্যে সময় কাটানো, এসবই করেছে, আর সুযোগ খুঁজেছে কখন ভুল করবে ব্রাজিলের রক্ষণ। ব্রাজিল দুই-একবার সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। কখনও এন্ড্রিকের ভুল, কখনও বা নাইল্যান্ডের অবিশ্বাস্য প্রাচীর। বারবার ফিরে এসেছে বল, ফিরতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
তবে ৭৯ মিনিটের মাথায় বদলে যায় সবকিছু। স্বপ্নের রং ফিকে হয়ে আসে ব্রাজিল শিবিরে। আর্লিং হাল্যান্ডের একটা হেড, ব্যস হিসাবের খাতা ওখানেই বন্ধ। তবুও তো খোলার সুযোগ কিছু সময়ের জন্য ছিল। সেটাও আর হলো কই! বরং ভাইকিংস সম্রাট হাল্যান্ড সব রাস্তা বন্ধ করে দিলেন ব্রাজিলের। ৯০ মিনিটের মাথায় নিখুঁত শটে নরওয়েকে এনে দিলেন দুই গোলের লিড।
ইনজুরি সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। একটা গোল শোধ দেন নেইমার জুনিয়র। তখন অবশ্য বড্ড দেরি হয়ে গেছে। সময় ফুরিয়েছে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাস লিখে ফেলে নরওয়ে, যার লেখক স্বয়ং আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ড। ২৮ বছর পর নরওয়েকে বিশ্বমঞ্চে টেনে এনে নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। আর হেক্সা স্বপ্ন ভাঙা ব্রাজিল ধরল বাড়ির পথ। ভক্তদের জন্য পড়ে রইল একটা লাইন, ‘এ দেখায় শেষ দেখা নয়।’

Share via:










