কোটি কোটি টাকার দামি সাইনিং নাকি ক্লাব একাডেমির কোনো বিস্ময় বালক! ২০২৬-২৭ প্রিমিয়ার লিগে মাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কার হাতে? আর্সেনাল, চেলসি থেকে ম্যানচেস্টার সিটি প্রাক-মৌসুমের হিসেব-নিকাশ বলছে, এবার স্রেফ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে নয়, ম্যাচের আসল ফয়সালা হবে নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল রোলে। আর সেই ট্যাকটিক্স বাস্তবায়নে বিশেষ নজর রাখতে হচ্ছে বেশ কিছু ফুটবলারের উপর।
অ্যাস্টন ভিলা থেকে রেকর্ড ফিতে চেলসিতে আসা মরগান রজার্সকে ঘিরে জাবি আলোনসোর মাস্টারপ্ল্যানটি চমৎকার। ঐতিহ্যবাহী স্ট্রাইকার রোলে না রেখে আলোনসো তাকে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন এক ‘ফ্লুইড অ্যাটাকার’ হিসেবে। কোল পামার ও জোয়াও পেদ্রোর সঙ্গে পজিশন অদলবদল করে প্রতিপক্ষের হাফ স্পেসগুলোতে ওভারলোড তৈরি করাই রজার্সের মূল দায়িত্ব। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইন ভেঙে দেওয়ার এই চাল চেলসির আক্রমণভাগে এক নতুন ডাইমেনশন যোগ করবে।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটিতে আর্লিং হাল্যান্ডের ভূমিকা এবার কেবল বক্সের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকছে না। মারেস্কার পজিশনাল ফুটবলে ডিফেন্ডারদের টেনে বের করতে হাল্যান্ডকে কিছুটা নিচে নেমে আসতে দেখা যেতে পারে, যা উইঙ্গারদের জন্য ভেতরের স্পেস উন্মুক্ত করবে।

তবে বল রিকভারির পরপরই হাল্যান্ডের ব্লাইন্ড সাইড রান সিটির কাউন্টার অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়েই থাকছে। ঠিক একইভাবে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ট্রানজিশনাল ফুটবলের ইঞ্জিন ব্রুনো ফার্নান্দেস। প্রতিপক্ষের প্রেস এড়িয়ে বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর তার প্রোগ্রেসিভ পাসিংই নির্ধারণ করবে ইউনাইটেডের আক্রমণের ধার।
প্রতিপক্ষের কমপ্যাক্ট লো ব্লক ভাঙতে বড় ক্লাবগুলো যখন হিমশিম খাবে, তখন নজর থাকবে আর্সেনালের নতুন সাইনিং ক্রিস্টোস জোলিসের দিকে। ইনভার্টেড উইঙ্গার হিসেবে বাঁ-প্রান্ত থেকে ভেতরে কাট ইন করে শট নেওয়ার কিংবা ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনে ডিফেন্ডারকে বিট করার দারুণ ক্ষমতা রয়েছে এই গ্রিক উইঙ্গারের।
বিপরীতে, ব্রেন্টফোর্ডের ডিরেক্ট ফুটবলে ইগোর থিয়াগো কাজ করবেন নিখুঁত টার্গেটম্যান হিসেবে। তাঁর এরিয়াল ডুয়েল জেতার ক্ষমতা ও হোল্ড আপ প্লে ব্রেন্টফোর্ডকে সেকেন্ড বল রিকভারিতে বেশ সুবিধা দেবে।

নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার আধুনিক ধারায় ব্রাইটনের ১৯ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাক লুকা ভুশকোভিচ হতে যাচ্ছেন অন্যতম অনুঘটক। ব্রাইটনের হাই লাইন সিস্টেমে নিচ থেকে তার নিখুঁত লাইন ব্রেকিং পাস মুহূর্তেই প্রতিপক্ষের প্রথম সারির প্রেস নিষ্ক্রিয় করে দেবে।
আবার প্রতিপক্ষ যদি হাই ডিফেন্সিভ লাইন নিয়ে খেলে, তবে এস্টন ভিলার ১৭ বছরের তরুণ ব্রায়ান মাজোর এক্সপ্লোসিভ পেস ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে যেকোনো রক্ষণভাগ চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
শিরোপার লড়াই কিংবা মিড টেবিল ডমিনেন্সে প্রভাব ফেলতে পারেন আরও একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার। প্রাক মৌসুমে আলো ছড়ানো ১৬ বছর বয়সী আর্সেনাল মিডফিল্ডার ম্যাক্স ডাউম্যান এবং ইউনাইটেডের উইংয়ে ঝড় তোলার অপেক্ষায় থাকা শে লাসির দিকেও চোখ থাকবে ফুটবল বোদ্ধাদের।












