অদম্য এমবাপ্পে ছুটছেনই

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেউ কেউ শুধুই খেলেন, আর কেউ কেউ সেই মঞ্চকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ঠিক সেই দ্বিতীয় শ্রেণির একজন। চার বছর পরপর আসা এই মহারণ যেন তার জন্যই অপেক্ষা করে থাকে। এবারের বিশ্বকাপও তাঁর জন্য ব্যতিক্রম নয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেউ কেউ শুধুই খেলেন, আর কেউ কেউ সেই মঞ্চকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ঠিক সেই দ্বিতীয় শ্রেণির একজন। চার বছর পরপর আসা এই মহারণ যেন তার জন্যই অপেক্ষা করে থাকে। এবারের বিশ্বকাপও তাঁর জন্য ব্যতিক্রম নয়।

প্যারাগুয়ের রক্ষণ প্রথমার্ধে গোল পেতে দেয়নি ফ্রান্সকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও একইভাবে হলো। ৬৯ মিনিটে এসে নিস্তেজ ভাবটা অবশেষে কাটল। পেনাল্টি থেকে গোল করলেন এমবাপ্পে। আর তাতেই যেন ইতিহাস লিখে ফেললেন।

মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই করেছেন সাত গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ ফ্রান্সের আক্রমণে হওয়া নয়টি গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা, ডিফেন্ডারদের কৌশল কিংবা গোলরক্ষকের প্রস্তুতি, কোনো কিছুই যেন তাকে থামাতে পারেনি।

 

সব মিলিয়ে ১৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। এই অল্প সময়েই করেছেন ১৯টি গোল। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি একটি গোলের অবিশ্বাস্য গড়! ফুটবল ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা খুব কম কিংবদন্তিরই আছে। বয়স এখনও ত্রিশও ছোঁয়নি, অথচ বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন তিনি। সামনে আছেন কেবল লিওনেল মেসি। যে গতিতে এমবাপ্পে এগোচ্ছেন, সেই রেকর্ডও হয়তো সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তবে শুধু গোলের সংখ্যা নয়, এমবাপ্পেকে আলাদা করে তোলে তাঁর গোল করার সময়টাও। বড় ম্যাচ, কঠিন ম্যাচ, নকআউট ম্যাচ, চাপ যত বাড়ে, এমবাপ্পে যেন ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেই তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১০। ফুটবল ইতিহাসে নকআউটের মতো নির্মম মঞ্চে এমন ধারাবাহিক আধিপত্য গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই পরিসংখ্যানগুলো এসেছে এমন এক বয়সে, যখন অনেক ফুটবলার এখনও নিজেদের সেরা সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। অথচ এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখে ফেলেছেন। সামনে আরও একাধিক বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে তাঁর। ইনজুরি যদি দূরে থাকে এবং ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপে এমন কোনো রেকর্ড থাকবে না, যেটা তাঁর অজেয়।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link