ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কি মাঠে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো স্বেচ্ছায় একাকী? তাঁকে নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় বিতর্ক—তিনি কি সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সার্ভিস পাচ্ছেন, নাকি নিজেই খেলার বাইরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন? কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর অন্তত দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটাই আরও জোরালো হয়ে উঠল।
৪-২-৩-১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। কিন্তু, আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা রোনালদো পুরো ম্যাচেই ছিলেন কার্যত নিষ্প্রভ। আধুনিক স্ট্রাইকারদের মতো প্রেসিং, মাঝমাঠে নেমে বল বিল্ড-আপে সাহায্য করা কিংবা বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট—কোনও ক্ষেত্রেই দেখা যায়নি তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। ভ্যাপসা গরমে খেলা ম্যাচে কয়েকটি অ্যাক্রোব্যাটিক প্রচেষ্টা ও হাতে গোনা কিছু টাচ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।

তবু পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন রোনাল্ডো। বদলি না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কোচ মার্তিনেজকে ঘিরেও। সমালোচকদের মতে, তারকা ফুটবলারদের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা দেখানো তাঁর পুরনো স্বভাব। বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর সময়ও একই অভিযোগ উঠেছিল। এবার পর্তুগালের ক্ষেত্রেও সেই কৌশল কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
এই ম্যাচে যথারীতি গোলের দেখা পাননি রোনালদো। ফলে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা রইল দুইয়ে। ব্যক্তিগত কোনও নতুন মাইলফলকও স্পর্শ করা হয়নি। অন্যদিকে ড্র করায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছে পর্তুগাল, ফলে নকআউট পর্বের আগে দলটি এখন বাড়তি চাপে।

রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এখানেই থামছে না। খালি চোখে মনে হতে পারে, পর্যাপ্ত ফাইনাল ডেলিভারি ও মানসম্মত অ্যাসিস্ট না পাওয়ায় তিনি কার্যকর হতে পারছেন না। অন্যদিকে, বাস্তবতা হল সিআর সেভেনের মুভমেন্ট, প্রেসিং ও সামগ্রিক অংশগ্রহণ কমে যাওয়াতেই পর্তুগালের আক্রমণ ধার হারাচ্ছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি অন্তত দ্বিতীয় যুক্তিকেই আরও শক্ত ভিত্তি দিল।










