ভারতকে লজ্জা থেকে বাঁচালেন টেম্বা বাভুমা

সময় ছিল, সুযোগও ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা খানিকটা লজ্জা থেকে বাঁচাল ভারতকে। নিজেদের মাটিতে এতটাও বাজে পারফরমেন্স টিম ইন্ডিয়ার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত।

সময় ছিল, সুযোগও ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা খানিকটা লজ্জা থেকে বাঁচাল ভারতকে। নিজেদের মাটিতে এতটাও বাজে পারফরমেন্স টিম ইন্ডিয়ার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। তবে সময় খারাপ যেতে থাকলে সব কিছুই ঘটে অপ্রত্যাশিতভাবে। স্রেফ ২০১ রানে অলআউট হয়েছে ঋষাভ পান্তের ভারত। গৌতম গম্ভীরের কোচিং ক্যারিয়ারে যেন নেমে এসেছে রীতিমত ঘোর অমনিশা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে চাপের মুখে টিম ইন্ডিয়া। হোয়াইট ওয়াশের শঙ্কা মাথায় নিয়ে গুয়াহাটি টেস্ট খেলতে নেমেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের সময় উইকেটটাকে হাইওয়ে রোডের সাথে তুলনা করেছিলেন কুলদ্বীপ যাদব। কিন্তু ভারত যখন ব্যাটিংয়ে এলো- তখন বদলে গেল সমস্ত দৃশ্যপট।

চোখের পলকে তাসের ঘরে পরিণত হয় ভারতের ব্যাটিং অর্ডার। ওয়াশিংটন সুন্দর ও কুলদ্বীপ একটা প্রতিরোধ গড়ে সম্মান বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন বটে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ফলো অন এড়ানোর জন্য যথেষ্ট রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারেনি পান্ত ও তার দল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে ফলো অনে ঠেলে দেয়নি। যদিও এর পেছনে দলের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছে প্রোটিয়ারা।

ভারত খুব বেশি রান করতে না পারলেও, প্রোটিয়া বোলাররা বোলিং করেছেন প্রায় ৮৪ ওভার। তাতে করে বোলারদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি ভাব চলে এসেছে। আবারও তাদেরকে দিয়ে বোলিং করানো ও ভারতকে দ্বিতীয় দফা অলআউটের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া খানিকটা অমানবিক। তাইতো ভারতকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নয়, বরং নিজেদের বোলারদের বিশ্রামের কারণেই ছাড় দিয়েছে সফরকারী দল।

কিন্তু তাদের কাছে সুযোগ অবশ্যই ছিল, ভারতকে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত করবার। এক্ষেত্রে অবশ্য আরও একটি বিষয় বিবেচিত হয়েছে- চতুর্থ ইনিংসে গুয়াহাটির উইকেটের বেহাল দশা হওয়ার সম্ভাবনা। টেস্টের তৃতীয় দিনে এসে এখনও অবধি বেশ ভাল অবস্থাতেই রয়েছে উইকেটের দশা। ব্যাটারদের খুব একটা বিপাকে পড়তে অন্তত হচ্ছে না।

তাইতো ২৮৮ রানের পুঁজিকে সঙ্গী করে প্রোটিয়ারা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা একেবারে স্পষ্ট। ৫০০ ছাড়ানো একটা লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দেবে তারা ভারতকে। এজন্য চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন অবধি ব্যাট করতে দেখা যেতে পারে টেম্বা বাভুমার দলকে। ততক্ষণে বিশ্রাম শেষে পূর্ণ উদ্দ্যমে জয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন প্রোটীয়া বোলাররা।

রানের চাপ, চতুর্থ ইনিংসে উইকেটের বেগতিক দশা, সেই সাথে সমালোচনার ভয়, হোয়াইট ওয়াশের তীব্র শঙ্কা- এসব মিলিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য অপেক্ষা করছে এক দুর্বিষহ সময়। ঘরের মাঠে এমন পরিস্থিতি হবে ভারতের, কেউ কি আদোতে ভেবেছে?

 

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link