দ্বিধা কাটিয়ে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

বল হাতে দৌড় শুরু করার আগে শরিফুল ইসলামের চোখে-মুখে তখনও লেগে ছিল একরাশ প্রশ্নের ছায়া। মাঠে নামারই কথা ছিল না তাঁর, অন্তত নিশ্চিত ছিল না কিছুই। চোট সারিয়ে অস্ট্রেলিয়া উড়ে যাওয়া এক পেসারকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল একাদশ পর্যন্ত—এবাদত পুরনো বলের বোলার, শরিফুল নতুন বলের, আর ডারউইনে নয় উইকেটের জয়ের পর জেতা দলের একাদশ ভাঙার সাহস দেখানো তো সহজ কথা নয়। তবু নির্বাচকরা বাজি ধরলেন নতুন বলের পরিকল্পনায়। এবাদত বসলেন বেঞ্চে, শরিফুল ফিরলেন একাদশে।

বল হাতে দৌড় শুরু করার আগে শরিফুল ইসলামের চোখে-মুখে তখনও লেগে ছিল একরাশ প্রশ্নের ছায়া। মাঠে নামারই কথা ছিল না তাঁর, অন্তত নিশ্চিত ছিল না কিছুই। চোট সারিয়ে অস্ট্রেলিয়া উড়ে যাওয়া এক পেসারকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল একাদশ পর্যন্ত—এবাদত পুরনো বলের বোলার, শরিফুল নতুন বলের, আর ডারউইনে নয় উইকেটের জয়ের পর জেতা দলের একাদশ ভাঙার সাহস দেখানো তো সহজ কথা নয়। তবু নির্বাচকরা বাজি ধরলেন নতুন বলের পরিকল্পনায়। এবাদত বসলেন বেঞ্চে, শরিফুল ফিরলেন একাদশে।

সিদ্ধান্তটা যে কতটা বুদ্ধিদীপ্ত ছিল, প্রথম সেশনেই টের পাওয়া গেল—তবে ভিন্ন এক চরিত্রে। মিশেল স্টার্কের তাণ্ডবে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল মোটে ৬৪ রানে, নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। একে একে সাজঘরে ফিরলেন ব্যাটসম্যানরা, অনেকেই খালি হাতে। সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি রান এলো এক পেসারের ব্যাট থেকেই—শরিফুল করলেন ১৪, ইনিংসের সর্বোচ্চ। যেন বলে দিলেন, ব্যর্থতার দিনেও লড়াই ছাড়া চলবে না।

আর তারপর বল হাতেও একই বার্তা। এমন ধসের পর পাল্টা লড়াইয়ের কোনো ছক কষার সময়ই ছিল না বাংলাদেশের হাতে। যা করার, নতুন বলেই করতে হতো। আর সেই মুহূর্তটাই যেন অপেক্ষায় ছিল শরিফুলের জন্য। নিজের দ্বিতীয় বলেই ট্র্যাভিস হেডকে ফেরালেন শরিফুল—শর্ট অব লেংথ থেকে  ভেতরে ঢোকা বলটা কাটতে গিয়েছিলেন হেড, ব্যাটের সরু কানায় লেগে বল আছড়ে পড়ল নিজের স্টাম্পেই। সিরিজে তৃতীয়বারের মতো একই ভুলে আউট হলেন হেড।

এরপর মার্নাস লাবুশেন, পায়ের ফাঁক গলে স্টাম্প উপড়ে গেল তাঁরও। একের পর এক আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস যখন হুমকি হয়ে দাঁড়াতে চাইছিল, তখনই সামনে দাঁড়ালেন শরিফুল, প্রতিরোধের নাম হয়ে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন তিনি, আগের সেরা ৩/২৮-কে ছাপিয়ে।

৩৫ রানে ৬ উইকেট—শুধু নিজের ক্যারিয়ারেরই সেরা নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি বোলারের টেস্ট ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারও এটি। প্রথম টেস্টে ডারউইনে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, ম্যাকায়-তে এসে সেটাই ভেঙে দিলেন শরিফুল। রেকর্ডটা চাইলে টেস্টের দ্বিতীয়দিন আরও বাড়িয়েও নিতে পারেন শরিফুল।

 ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় তিনি দেখেছেন মাঠের বাইরে থেকে। আক্ষেপ নেই বলেই দাবি করেছিলেন, বলেছিলেন উদযাপনের ছবিতে অন্তত জায়গা হয়েছে তাঁর। জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতেও ছিল তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা ছয় উইকেট। যেন নিয়তি বারবার তাঁকে এই একই প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছিল প্রমাণ করার জন্য।

দল যাঁকে নিয়ে দ্বিধায় ছিল, সেই শরিফুলই আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা—ব্যাট আর বল, দুই হাতেই। প্রশ্ন যাঁকে ঘিরে জন্মেছিল, উত্তরটাও দিলেন তিনি নিজেই। নির্বাচকদের সাহস আর শরিফুলের ফেরা—এই জুটি কি তবে ম্যাকায়তে বাংলাদেশের জন্য লিখে ফেলল আরেকটি ইতিহাসের ভূমিকা?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link