দুই পেসারের আগুনঝরা দিনে ১৮ উইকেটের মহানাটক!

সংখ্যায় স্টার্ক এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রাখার কৃতিত্বটা শরিফুলেরই। আগামীকাল সকালে শেষ দুই উইকেট যত দ্রুত নেওয়া যাবে, ততই ম্যাচে ফিরতে পারবে বাংলাদেশ

ম্যাকায়ের আকাশে তখনও সকালের রোদ পুরোপুরি গা এলিয়ে বসেনি, তার আগেই মাঠে নেমে পড়েছিল এক ঝড়। প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু, তারপর একে একে তানজিদ, শান্ত—মিচেল স্টার্কের হাতে বল যেন আগুনের গোলা হয়ে উঠেছিল। মাত্র সাত ওভারেই বাংলাদেশ ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে, আর গোটা ইনিংসটাই থামল ৬৪ রানে—নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। স্টার্কের ফিগার ৬/১২, স্বপ্নের মতো এক স্পেল।

আর এই ধসের পর বল হাতে বাংলাদেশের পাল্টা আঘাত। শরিফুল ইসলাম একে একে ফিরিয়েছেন ট্র্যাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে। ৬ উইকেট ৩৫ রান দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি বোলারের টেস্টে সেরা বোলিং ফিগার।

সব মিলিয়ে ম্যাকায়ে প্রথম দিনটি হয়ে থাকল এক বিরল বোলিং-উৎসব। দুই দলের মোট ১৮টি উইকেট পড়েছে এক দিনেই—বাংলাদেশ ৬৪ রানে অলআউট, আর দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়া ১৬৫/৮।

অর্থাৎ, ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্নের দিন হলেও বোলারদের জন্য ছিল নিজেদের নাম ইতিহাসে লেখার দিন। একদিকে স্টার্কের ৬ উইকেটে ১২, অন্যদিকে শরিফুলের ৬ উইকেটে  ৩৫—একই দিনে দুই দলের দুই পেসারের ছয় উইকেটের এমন লড়াই টেস্ট ক্রিকেটে খুবই বিরল।

দিনের শেষটা অবশ্য পুরোপুরি বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি। শরিফুলের তাণ্ডবের মাঝেও ক্যামেরুন গ্রিন একা লড়াই করে অপরাজিত ৫১ রানে, নাথান লায়নকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৬৫/৮ পর্যন্ত টেনে নেন। ফলে প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার লিড ১০১ রান।

স্টার্ক আর শরিফুল—দুজনেই যেন আলাদা করে নিজেদের নামে লিখে নিয়েছেন এই দিনটা। সংখ্যায় স্টার্ক এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রাখার কৃতিত্বটা শরিফুলেরই। আগামীকাল সকালে শেষ দুই উইকেট যত দ্রুত নেওয়া যাবে, ততই ম্যাচে ফিরতে পারবে বাংলাদেশ

।

 

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link