পিতা-পুত্রের বিশ্বকাপের উত্তরাধিকার!

পিতার পূরণ না হওয়া স্বপ্নের হাত ধরে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ময়দানে নামা ইতালির পাওলো মালদিনি কিংবা স্পেনের জাবি আলোনসোরা তো এমনকি জিতেছেন বিশ্বকাপও।

বিশ্বকাপ ফুটবল মানে কেবল সবুজ ঘাসের মাঠের ২২ জনের লড়াই নয়, এ যেন যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক জীবনের গল্প। শত বছরের এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বমঞ্চের সবুজ ঘাসে রচিত হয়েছে এমন কিছু গল্প, যেখানে বাবার উত্তরাধিকার ধারণ করে একই মঞ্চে গর্জে উঠেছে ছেলেও। ফুটবল ইতিহাসের এই পারিবারিক উত্তরাধিকারই টুর্নামেন্টকে করেছে আরও বেশি আবেগময়। 

শত বছরের এই ফুটবল মহাকাব্যে এখন পর্যন্ত সাতাশটি এমন পিতা-পুত্রের জুটি দেখা গেছে, যারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপেই উরুগুয়ের লুইস পেরেজের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পারিবারিক বন্ধনের ইতিহাস; যেখানে ঠিক দুই দশক পর ১৯৫০ সালে যুক্ত হন তাঁর ছেলে মারিও পেরেজ।

ইতিহাসের সেই প্রাচীন ধারা আজও ম্লান হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও রঙিন হয়েছে। পিতার পূরণ না হওয়া স্বপ্নের হাত ধরে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ময়দানে নামা ইতালির পাওলো মালদিনি কিংবা স্পেনের জাবি আলোনসোরা তো এমনকি জিতেছেন বিশ্বকাপও। এমনকি ইতালি সামনের দিনে বিশ্বকাপ খেললে পাওলোর ছেলে ড্যানিয়েল মালদিনিকেও হয়তো মাঠে দেখা যেতে পারে। 

সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও আমরা দেখেছি এই রাজকীয় রক্তের গর্জন। ফ্রান্সের কিংবদন্তি লিলিয়ান থুরামের ছেলে মার্কাস থুরাম কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লদিও রেইনার ছেলে জিওভান্নি রেইনারা ২০২২ সালের মঞ্চে নিজের পিতার নাম উজ্জ্বল করেছেন নতুন করে। 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের এই উপস্থিতি ফুটবলকে এক অনন্য আভিজাত্য দিয়েছে। ডেনমার্কের গোলপোস্ট আগলে রাখা স্মাইকেল পিতা-পুত্র কিংবা উরুগুয়ের পাবলো ফোরলানের পুত্র ডিয়েগো ফোরলান অন্যতম উদাহরণ। বাবার দেখানো পথেই ছেলেরা বিশ্বমঞ্চে হেঁটে গিয়ে জয় করেছেন কোটি ফুটবল ভক্তের ভালোবাসা।

ফুটবলের এই উত্তরাধিকার প্রমাণ করে যে, কিছু আবেগ কেবল রক্তেই বইতে থাকে। বাবা যেদিন মাঠ থেকে বিদায় নেন, ছেঁড়া বুটের সেই গল্পটাই নতুন করে প্রাণ পায় ছেলের পায়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই পারিবারিক উপাখ্যান তাই কেবল কিছু ম্যাচের পরিসংখ্যান নয়, বরং ফুটবল সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য এবং চিরন্তন ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link