উদারার মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনে শ্রীলঙ্কার দাপট

পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরে লাহিরু উদারা দুর্দান্ত ১৮৮ রানের ইনিংসে খেলে অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার করে তুললেন।

একটা ইনিংস কখনও শুধু রানসংখ্যায় মাপা যায় না, মাপা যায় ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতায়। পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরে লাহিরু উদারা ঠিক সেটাই করলেন। দুর্দান্ত ১৮৮ রানের ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার করে তুললেন এই ওপেনার।

ইনজুরির কারণে একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। শুরুটা অবশ্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। নিশান মাদুশকা ও দিনেশ চান্দিমাল দুজনই শামার জোসেফের শিকার হয়ে দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা। তখনই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন উদারা ও কামিন্দু মেন্ডিস।

দুজনের ব্যাটে ছিল না কোনো ভীতি। বিশেষ করে উদারা শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫৯ বলে ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। মধ্যাহ্ন বিরতির পরও সেই ছন্দ অটুট থাকে। আলজারি জোসেফকে ছক্কা হাঁকিয়ে আশির ঘরে পৌঁছানোর পর তৃতীয় ছক্কায় পূর্ণ করেন দুর্দান্ত শতক। এরপরও থামেননি। চার-ছক্কার বন্যায় রানরেট পাঁচের ওপরে তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রীতিমতো দিশেহারা করে দেন উদারা।

অপর প্রান্তে কামিন্দুও দেয়াল গড়েন। দুজনের গড়া ২০০ রানের বেশি জুটি শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ যে কোনো উইকেট জুটির নতুন রেকর্ড হয়। তবে ৮৪ রানে শাই হোপের চমৎকার স্টাম্পিংয়ে থেমে যায় কামিন্দুর ইনিংস।

এরপর অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে আরও ৯৩ রান যোগ করেন উদারা। বাউন্ডারি মেরে দেড়শ ছোঁয়া এই ব্যাটারকে দেখে মনে হচ্ছিল, ডাবল সেঞ্চুরিও হয়তো করা অসাধ্য নয়। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বল আসার তিন বল আগে টপ-এজ হয়ে ১৮৮ রানেই থামতে হয় তাঁকে। নতুন বল হাতে পেয়েই ধনঞ্জয়াকেও ফিরিয়ে শেষ বিকেলে কিছুটা স্বস্তি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দিন শেষে স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৩৮। স্বাগতিকরা দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে এখন। তবে প্রথম দিনের গল্প একটাই—লাহিরু উদারার মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে শ্রীলঙ্কার দাপট।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link