ভোজিনহারা হারতে জানেন না!

তবে, বিশ্বকাপ এমন এক মঞ্চ যা সবাইকে এক করে দেয়। আর ভোজিনহা বিশ্বকাপ জুড়েই এমন মুগ্ধ করেছেন, যাতে করে খোদ মেসির পাশে তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে বারবার। ম্যাচে মেসিই জিতলেন, কিন্তু ভোজিনহা কোনো ভাবেই হারেননি।

একটা রিয়েলিটি চেকের দরকার ছিল আর্জেন্টিনার। আর সেই রিয়েলিটি চেকের নাম কেপ ভার্দে। কার্যত কেপ ভার্দে নয়, আর্জেন্টিনাকে আরও নির্দিষ্ট করে বললে খোদ লিওনেল মেসিকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন হোসে ইভোরা ডিয়াজ, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।

ফুটবল বিশ্ব যাকে এই বিশ্বকাপের মঞ্চে ভোজিনহা বলেই চেনে। দিন শেষে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে তিনবার জালের দেখা খুঁজে পায় আর্জেন্টিনা। এই পরিসংখ্যান আসলে ভোজিনহার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কেবল সেভই তিনি করেছেন সাতটা। সেটা না হলে, অনেক আগেই কেপ ভার্দে বাড়ি ফিরে যায়।

তবে, কেপ ভার্দে কেবল রক্ষণ নির্ভর দল ছিল না আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। তাঁরা আক্রমণ করেছে, দুবার গোলও দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত হারে স্রেফ অভিজ্ঞতার কাছে, লিওনেল মেসির কাছে। যে সাতটা সেভ করেছেন, পাঁচটিই মেসির বিপক্ষে।

ভোজিনহা অবশ্য মেসির কাছে হারেননি। ওয়ান-ওয়ান ডুয়েলে মেসিকে আটকেছেন, স্পট-কিকে মেসিকে আটকেছেন, একদম ফাঁকা জায়গায় মেসিকে তিনি থামিয়ে দিয়েছেন। শুধু মেসি নয়, সব মিলিয়ে আটটি ডিফেন্সিভ ডুয়েল জিতেছেন।

অথচ, কাগজে কলমে মেসির চেয়ে তাঁর বয়স বেশি। ভোজিনহার বয়স ৪০, মেসির ৩৯। বিশ্বকাপের আগেও হয়তো অখ্যাত এই গোলরক্ষককে খুব কম মানুষই চিনতেন। ভিসা জটিলতায় তাঁর মাকে আমেরিকায় বিশ্বকাপ দেখাতে আনতে পারেননি।

তবে, বিশ্বকাপ এমন এক মঞ্চ যা সবাইকে এক করে দেয়। আর ভোজিনহা বিশ্বকাপ জুড়েই এমন মুগ্ধ করেছেন, যাতে করে খোদ মেসির পাশে তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে বারবার। ম্যাচে মেসিই জিতলেন, কিন্তু ভোজিনহা কোনো ভাবেই হারেননি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link