সম্প্রতি শেষ হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা। কিন্তু ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা কি অলীক স্বপ্ন হয়ে থাকবে ফুটবল পাগল এ জনপদের জন্য?
তবে উত্তরটা এখন আর সরাসরি নেতিবাচক নয়। ইউরোপ-আমেরিকার নামী একাডেমি থেকে উঠে আসা একঝাঁক তরুণের ওপর নজর দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রবাস থেকে ফুটবলার খোঁজার এই বৈশ্বিক মিশনই বদলে দিচ্ছে দেশের ফুটবলের পুরনো ব্যাকরণ।
বাফুফে সহ-সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক ফাহাদ করিমের ফুটবল ডিপ্লোম্যাসিই মূলত মাঠের বাইরে এ ক্ষেত্রে শাপে বর হয়ে উঠছে। ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুলহ্যামে খেলা ফারহান আলী ওয়াহিদ কিংবা কানাডার জাতীয় দলে ২ ম্যাচ খেলা শমিত সোমের মতো প্রতিভারা এখন বাংলাদেশের হয়ে লড়তে প্রস্তুত।

রায়ান আলী ওয়াহিদ, রোনান সুলিভান, ডেক্লান সুলিভান, ট্রেভর ইসলাম, অ্যাডাম আব্বাস ও জিদান ইউসুফদের জাতীয় দলে ভেড়ানোতেও ফেডারেশন সফল হয়েছে। এখন ফাহাদ করিমের চোখ কাভানের দিকে। তার দুই ভাইয়ের মতো কাভানও লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়াতে রাজি হয়ে গেলে দেশের ফুটবল পৌঁছাবে অনন্য উচ্চতায়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই কৌশল এখন সাফল্যের পরীক্ষিত ফর্মুলা। ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোয়াড তার বড় উদাহরণ। মার্কিন জার্সিতে তারকা নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত ফোলারিন বালোগান ও ক্রোয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ দ্যুতি ছড়িয়েছেন বিশ্বকাপে। লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি জর্জ উইয়াহর ছেলে টিম উইয়াহও মার্কিনীদের রাউন্ড অব ১৬ পর্যন্ত যেতে সহায়তা করেছেন।
এমনকি মেক্সিকোর রিকারডো পেপি ও ক্রিশ্চিয়ান রোল্ডান, জার্মান বংশোদ্ভূত মালিক টিলম্যান এবং ইংলিশ অ্যান্টনি রবিনসনও ফুটবল জাদুতে জয় করেছেন মার্কিনীদের মন। হাইতি দলেও ২৬ জনের ১৬ জনই প্রবাসী ফুটবলার ছিলেন এবার।
এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নতুন মার্কিন কোচ থমাস ডুলি এই মিশনে যোগ করেছেন পেশাদারিত্বের নতুন মাত্রা। ইউরোপের একাডেমি ও ক্লাবগুলোর বয়সভিত্তিক দলে থাকা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের নিজেই দেশের হয়ে খেলতে রাজি করাতে চান তিনি।

বাফুফের লক্ষ্য পরিষ্কার, আসন্ন নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। দায়িত্বে আসার পর থেকেই ফাহাদ করিমের এই ‘বিগ ফিশ’ ধরার মিশন সফল হলে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও হয়তো সত্যি হতে পারে বাংলাদেশের। শিকড়ের টানে প্রবাসীদের এই ফুটবলীয় জোয়ারই কি লিখবে লাল-সবুজের নতুন গৌরবগাথা?










