অল্প বয়সেই এমবাপ্পে কেন এত অপ্রতিরোধ্য?

২০১৮-এর ফাইনালে গোল, ২০২২-এর ফাইনালে হ্যাটট্রিক, এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও নকআউট পর্বে একের পর এক ফল নির্ধারণী মুহূর্তে লক্ষ্যভেদ করে চলেছেন তিনি। বড় ম্যাচ মানেই যেন অপ্রতিরোধ্য এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কিছু খেলোয়াড় ইতিহাস লেখেন। আবার কিছু খেলোয়াড় ইতিহাসের সংজ্ঞাই বদলে দেন। আর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন সেই ইতিহাসের সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার এক নিঁখুত কারিগর।

খেলেছেন ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ। গোলও ঠিক ২০টি। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এমন ধারাবাহিকতা আধুনিক যুগে দেখাতে পারেননি আর কেউ। ২০১৮-এর ফাইনালে গোল, ২০২২-এর ফাইনালে হ্যাটট্রিক, এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও নকআউট পর্বে একের পর এক ফল নির্ধারণী মুহূর্তে লক্ষ্যভেদ করে চলেছেন তিনি। বড় ম্যাচ মানেই যেন অপ্রতিরোধ্য এমবাপ্পে।

কিন্তু এর পেছনে রহস্যটা কোথায়? শুধু গতি নয়। শুধু ফিনিশিংও নয়। এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি, তিনি একই সঙ্গে আক্রমণের স্রষ্টা এবং ফিনিশার। কখনো ডিফেন্স লাইনের পেছনে দৌড়ে যান। কখনো বাম প্রান্ত থেকে একাই আক্রমণ গড়ে তোলেন। আবার প্রয়োজন হলে বল টেনে এনে নিজেই নেন শট। তাকে আটকে রাখার সাধ্যই যেন নেই কারোর।

আধুনিক ফুটবলের বিবর্তিত ট্যাকটিক্সও এগিয়ে রাখছে এমবাপ্পেকে। বড় দলগুলো এখন আক্রমণ সাজানোর সময় পরিকল্পনা করে। ডেটা বিশ্লেষণ করে উচ্চমানের সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে। পাশাপাশি উঁচু ডিফেন্স লাইনও পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। সেই জায়গাকেই সবচেয়ে নির্মমভাবে কাজে লাগান এমবাপ্পে। তৈরি করেন সুযোগ। খুঁজে নেন জাল।

এখানেই তাঁর বিশ্বকাপের গল্প আলাদা হয়ে ওঠে। গোলের সংখ্যা ছাপিয়ে নকআউটের চাপ, প্রতিপক্ষের মান এবং মুহূর্তের গুরুত্বই একজন কিংবদন্তিকে আলাদা করে। আর এমবাপ্পে সেই পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়ে চলেছেন।

২৭ বছর বয়সেই তাঁর বিশ্বকাপ অধ্যায় কিংবদন্তিদের কাতারে পৌঁছেছে। সামনে আরও অন্তত দুটি আসরে খেলতে পারবেন এমবাপ্পে। তাই প্রশ্নটি এখন আর অযৌক্তিক নয়: ফুটবল তার সর্বকালের সেরা গোলস্কোরারকে খেলতে দেখছে কি-না। সময়ই দেবে সব জবাব।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link