‘বোলার’ রাহুল দ্রাবিড়

ব্যাটসম্যান, আপদকালীন উইকেটক্ষক, অধিনায়ক, কোচ - দাঁড়ান, এখানেই শেষ নয়। রাহুল দ্রাবিড় কিন্তু বোলিংও করেছেন। কী চমকে গেলেন? চমক আরো আছে, বোলিংয়ে তিনি কাদের উইকেট পেয়েছেন সেই তালিকা দেখলে চমক আরো বাড়বে।

‘দ্য গ্রেট ওয়াল’ – এই নামেই সবাই তাঁকে চিনে। বিপদের মুখে উইকেটে ঠায় টিকে থাকায় রাহুল দ্রাবিড়ের জুড়ি ছিল না। এর বাদে তিনি অধিনায়কত্ব করেছেন, আবার ভারতের আপদকালীন উইকেটরক্ষক হিসেবে লম্বা সময় কাটিয়েছেন উইকেটের পেছনে। ক্যারিয়ার শেষ করার পর ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন কোচ হিসেবে।

ভারতের ক্রিকেটে রাহুল দ্রাবিড়ের এমন সব ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। দাঁড়ান, এখানেই শেষ নয়। রাহুল দ্রাবিড় কিন্তু বোলিংও করেছেন। কী চমকে গেলেন? চমক আরো আছে, বোলিংয়ে তিনি কাদের উইকেট পেয়েছেন সেই তালিকা দেখলে চমক আরো বাড়বে।

রাহুল দ্রাবিড় অফ ব্রেক বোলিং করতেন পার্টটাইমার হিসেবে। সেই করতে গিয়ে তিনি টেস্টে একটা ও ওয়ানডেতে চারটা উইকেট পেয়েছেন। তবে, তাঁর বলে আউট হওয়া পাঁচ ব্যাটসম্যানের নাম শুনলে আপনাদের চোখ নি:সন্দেহে কপালে উঠবে।

  • রিডলি জ্যাকবস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

নব্বই দশকের ক্রিকেট যারা অনুসরণ করেছেন, তাঁদের কাছে এই নামটা মোটেও অপরিচিত নয়। রিডলি জ্যাকব ছিলেন ক্যারিবিয়ান দলের উইকেটরক্ষক, লোয়ার-মিডল অর্ডারে ভরসার প্রতীক। আর তিনিই হলেন টেস্টে দ্রাবিড়ের একমাত্র শিকার।

সেটা ২০০২ সাল। অ্যান্টিগা টেস্টের পঞ্চম দিন। ম্যাচটা বিখ্যাত ছিল অনিল কুম্বলের কারণে। তিনি ভাঙা চোয়ালে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে নেমেছিলেন বোলিং করতে। সেবার এক ইনিংসে ১১ জন বোলারকে ব্যবহার করেছিল ভারত। দ্রাবিড় নয় ওভার বোলিং করে ১৮ রান দেন, উইকেট নেন একটি। সেই ম্যাচে ভিভিএস লক্ষ্মণও ১৭ ওভার বোলিং করে এক উইকেট নেন। ওয়াসিম জাফর নেন দুই উইকেট।

  • শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

প্রোটিয়াদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেস বোলিং অলরাউন্ডার। দ্রাবিড় পোলকের উইকেট পান খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ২০০০ সালে ফরিদাবাদে ভারতের দেওয়া ২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সফরকারীদের আশা-ভরসা টিকে ছিল পোলকের ওপর। তখনই পোলককে ফেরান দ্রাবিড়। তিনি দুই ওভারে ১৬ রান গুনেন। যদিও, দুই ওভার বাকি থাকতে ম্যাচটা জিতে সফরকারীরা।

  • গ্যারি কার্স্টেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)

সেটা ২০০০ সালের নয় মার্চ। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার মিলে ২৩৫ রানের অতিমানবীয় জুটি গড়েন। অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি নিরুপায় হয়ে বল তুলে দেন দ্রাবিড়ের হাতে। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন দ্রাবিড়। ফেরান স্বয়ং গ্যারি কার্স্টেনকে।

তখন থেকে পতন শুরু হয় প্রোটিয়াদের। মনে হচ্ছিল ৩৫০ করে ফেলবে, শেষ অবধি তাদের ইনিংস শেষ হয় ৩০২ রানে।

  • ল্যান্স ক্লুজনার (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রাহুল দ্রাবিড়ের বোলিং সবচেয়ে ভাল। পাঁচ উইকেটের মধ্যে তিনজনই প্রোটিয়া। তৃতীয় জন হলেন ল্যান্স ক্লুজনার, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের নায়ক। সেটাও ওই নয় মার্চের ম্যাচের ঘটনা।

শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার তাগিদে চারে পাঠানো হয় ক্লুজনারকে। কিন্তু, ক্লুজনারও থামেন দ্রাবিড়ের ভেলকিতে। বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যান সাজঘরে। একই ওভারে তিনি ফেরান দু’জনকে। সেদিন ভারতের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন দ্রাবিড়। নয় ওভার বোলিং করে ৪৩ রান দিয়ে নেন দুই উকেট। দ্রাবিড়ের বোলিং পারফরম্যান্সে ঢাকা পড়েন অনিল কুম্বলে, অজিত আগারকাররা।

  • সাঈদ আনোয়ার (পাকিস্তান)

সাঈদ আনোয়ারকে মনে না রাখতে পারার কোনো কারণ নেই। নান্দনিক এই ওপেনার অনেক ভারতীয় বোলারের দু:স্বপ্নের কারণ হয়েছিলেন। সেই সাঈদ আনোয়ারকে ফিরিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়।

সেটা ছিল ১৯৯৯ সালের পেপসি কাপের তৃতীয় ওয়ানডে। আনোয়ার ও শহীদ আফ্রিদির উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ গতিতে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। ৯৫ রানে তখন ব্যাট করছিলেন আনোয়ার। তখনই বোলিংয়ে আসেন পার্টটাইমার দ্রাবিড়। মনে হচ্ছিল সহজেই আরেকটি সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছে যাবেন।

কিন্তু বিধি বাম। দ্রাবিড়কে পড়তে ভুল করলেন আনোয়ার। বল ব্যাটে লেগে চলে গেল উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো উইকেটরক্ষকের হাতে। এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান। আর শেষ অবধি সহজেই জিতে যায় ভারত। কে জানে, সাঈদ আনোয়ার আরো ক্ষানিকক্ষণ উইকেটে থাকলে সেটা আদৌ সম্ভব হত কি না!

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...