আর হয়েছেও তাই, সাধারণ অফস্পিনার থেকে আজ হয়ে উঠেছেন রহস্যে ঘেরা এক বোলার। যেন তাঁকে পড়তে পারা যে কোনো ব্যাটারের জন্য হিমালয় ডিঙানোর সমান। প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভা তেমন ছিল না। তবে ইচ্ছে ছিলো, আর ছিলো পরিশ্রম করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
যেখানে প্রতিভা থেমে যায়, সেখান থেকেই তো পরিশ্রম শুরু করে। তাই তো সেই পরিশ্রমকেই মূলমন্ত্র বানিয়ে আজ তিনি ম্যাজিকাল রাঠি। একটা সময় ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। কিন্তু, হাল ছাড়েননি। ২০২০ সালের দিকে তিনি বুঝতে পারেন সাধারণ অফস্পিনার হিসেবে টিকে থাকাটা কঠিন।

শুরু হয় নিজেকে খোঁজার মিশন। একই স্টাম্পে ছয়-সাত ঘণ্টা টানা বল করা এবং সেটা প্রতিদিন। পেছনে থাকা উইকেট কিপারের ক্লান্তি তখন চোখে মুখে। তবে রাঠি যেন স্বপ্ন ঘোরে বিভোর। দীর্ঘ সময় এক স্টাম্পে বল করতে করতে সে নিজেই তৈরি করে তার ক্যারম বল, গুগলি ও সিম-আপ ডেলিভারি।
তাঁর পরিশ্রম দেখে কোচ শচিন শুক্লা বলেছিলেন, ‘আমি অনেক উৎসাহী খেলোয়াড় দেখেছি, কিন্তু রহস্য স্পিনার হতে দিগভেশ যে পরিশ্রম করেছে, সেটা অন্যরকম ছিল। সে একটানা ছয়-সাত ঘণ্টা একটি স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করতো।’
এভাবেই তার নিখুঁত বোলিং তৈরি হয়। তখন থেকেই পাল্টে যায় তার বোলিং স্টাইল, নিজেকে ভেঙে গড়ে তৈরি করেন এই রহস্য স্পিনার। ২০২৪ সালে দিল্লী প্রিমিয়ার লিগ বদলে দেয় সবকিছু। ১৪ উইকেট নিয়ে নজর কাড়লেন সেবার। তার কিছুদিন পর মুশতাক আলী ট্রফিতে আর এরপর তো এলএসজি তাঁকে তুলে নেয় আইপিএল এর মেগা নিলামে।

লখনৌ সুপার জায়ান্টস কোচ জ্যাস্টিন ল্যাঙ্গার তো বলেই ফেললেন, ‘যদি সে দিনে ১৬ ঘণ্টা বল করতে পারত, তাহলে তাই করত।’ এরপর বাকি গল্পটা সবার জানা। প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন, বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে যাচ্ছে নাম।











