সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। তবে তিনি একা নন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরও দুইজন রয়েছেন যারা একক ফরম্যাটে ৫০০ উইকেটের গণ্ডি পেরিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বাঁহাতি স্পিনার মানেই এক আলাদা আবেগ। এখানেই যে জন্ম হয়েছে সাকিবের মতো বিশ্বমানের স্পিনার। তবে সাকিবের আগে যে বাঁহাতি স্পিন জাদুতে আলো ছড়িয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই কিংবদন্তির শিকার ৬৩৪ উইকেট— যা আজও দেশের যেকোনো স্পিনারের জন্য অনুপ্রেরণা। একটা সময় জাতীয় দলের ভরসা জুড়ে ছিলেন তিনি। জাদুকরী ঘূর্ণিতে ম্যাচ জিতিয়েছেন অনেকবারই।

আব্দুর রাজ্জাকের পরেও আরেক বাঁহাতি এনামুল হক জুনিয়র করেছেন এই কীর্তি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩৯ ম্যাচ খেলে তুলেছেন ৫১০ উইকেট। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারটা দীর্ঘ হয়নি, তবুও ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে এনামুল জুনিয়রের এই রেকর্ড স্মরণীয় হয়েই থাকবে।
তবে সবাইকে ছাপিয়ে দেশের ক্রিকেটে আলো হয়ে জ্বলে আছেন সাকিব আল হাসান। তিনি একমাত্র ক্রিকেটার যিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই নিয়েছেন ৫০০’র বেশি উইকেট। বর্তমানে তাঁর শিকার ৫০২, সংখ্যাটা আরও বাড়বে নিশ্চয়। ব্যাট-বলের এই মহারথী শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের চোখে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার। তাঁর এই রেকর্ড বাঁচিয়ে রেখেছে বাঁহাতি স্পিনের ঐতিহ্য।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সাদা বলের ক্রিকেটে বর্তমানে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য বাঁহাতি স্পিনারের সংখ্যা খুবই কম। এক সময়ের ঐতিহ্য হয়তো এখন স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ। যদিও আশার নাম হয়ে এখনও আছেন তাইজুল ইসলাম। লাল বলের অঘোষিত সম্রাট তাইজুল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ৪৯১ উইকেট। অর্থাৎ মাত্র ৯ উইকেট পেলে তিনি পা রাখবেন পাঁচশ’র ক্লাবে।

আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল জুনিয়র আর সাকিব আল হাসানের নাম একসাথে উচ্চারণ করলেই বোঝা যায়, এই মাটি কতটা উর্বর ছিল বাঁহাতি স্পিন জন্ম দেওয়ার জন্য। হয়তো বর্তমানে সেই জৌলুশ কিছুটা কম, তবে এখন দায়িত্বভার তাইজুল ইসলামের হাতে। তিনি পারবেন কি বাহাতি স্পিনারদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে!











