শতক হাঁকিয়েও পরাজিত সৈনিক পাথুম নিসাঙ্কা

নির্বিকার থেকেই লঙ্কান ব্যাটার তুলে নিয়েছেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তবুও তিনি বনে গেলেন ট্র্যাজিক হিরো। 

পাথুম নিসাঙ্কা, কাম এন্ড কম্পোজড। তার খেলা শট ঠেকিয়ে দিলেন হার্শিত রান। পরক্ষণেই থ্রো করলেন স্ট্যাম্পের দিকে। পাথুম নিসাঙ্কা নির্বিকার চিত্তে স্রেফ বোলারের চোখে চোখ রাখলেন। পরবর্তী বলে মিড উইকেট বাউন্ডারির ওপারে ফেললেন হার্শিত রানার ছোড়া বলটাকে। এভাবেই নির্বিকার থেকেই লঙ্কান ব্যাটার তুলে নিয়েছেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তবুও তিনি বনে গেলেন ট্র্যাজিক হিরো।

বেশ হাই নোটে এবারের এশিয়া কাপ শুরু করেছিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিফটি ছাড়াও হংকংয়ের বিপক্ষে ৬৮ রানের একটা ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে। এরপর তার ছন্দের পতন ঘটে। সাথে দুর্দশা নেমে আসে লঙ্কান শিবিরেও। এশিয়া কাপের ফাইনালের আলোচনার থেকে ছিটকে যায় চারিথ আসালাঙ্কার দল।

তবুও যেই হাই নোটে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন নিসাঙ্কা, সেই হাই নোটেই তিনি শেষ করতে চাইলেন এবারের এশিয়া কাপ। তাইতো ইনিংসের একেবারে প্রথম বল থেকেই তিনি দেখে-শুনে বাউন্ডারি হাঁকানোর দিকে দেন মনোযোগ। তাতে করে একটা পর্যায়ে তিনি ২৫ বলে পৌঁছে যান পঞ্চাশ রানের মাইলফলকে।

তার বুদ্ধিদীপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে সমানুপাতিক হারে। ভারতের দেওয়া ২০৩ রানের বিশাল লক্ষ্যটাও তখন তাড়া করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে লঙ্কান শিবির। পাথুমের সেসবের ভ্রুক্ষেপ ছিল না খুব একটা। হার্শিত রানার একটা বল তার মাথায়ও আঘাত করে- তবুও টলেনি নিসাঙ্কার মনোযোগ।

তিনি ভারতীয় বোলারদের চোখে চোখ রেখে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন নিজের ব্যক্তিগত ইনিংস। সেই সাথে ট্রেনের অপর চাকা বনে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ছক্কা হাঁকিয়ে নিসাঙ্কা স্পর্শ করেন তিন অংকের সেই ম্যাজিকাল ফিগার। এরপর হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন তিনি সমালোচনায় কান দেন না, বিশ্বাস রাখেন উপরওয়ালার উপর। আর সেই বিশ্বাসের উপহার এমন দূর্দান্ত এক ইনিংস।

তবে নিসাঙ্কার এমন ইনিংসে অবদান রেখেছেন কুশল পেরেরাও। তিনি আরেকপাশ থেকে নিসাঙ্কাকে সঙ্গ না দিলে হয়ত, শেষ অবধি সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে পারতেন না পাথুম নিসাঙ্কা। তবে দিনশেষে পরাজিত সৈনিক হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিসাঙ্কাকে। সুপার ওভারে ভারতের কাছে হেরেছে শ্রীলঙ্কা।

হার্শিতের সাথে চলা পাথুমের ওই ব্যাটেলের শেষ হাসি হেসেছেন হার্শিত রানা। নিসাঙ্কাকে শর্ট ফাইন লেগে আটকে ফেলেন হার্শিত। আর সেখানেই যেন শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়। যদিও দাসুন শানাকা শেষ অবধি ম্যাচটাকে টেনে নিয়ে গেছেন সুপার ওভার অবধি।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link