হারের সংখ্যাটা কাটায় কাটায় ২০০। গত ২০ বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এত বাজে পারফরম্যান্স করেছে কি? আবুধাবিতে এটিই যেকোন দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার, আফগানদের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ জয়। বাংলাদেশ যে লজ্জার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে, এখন যেন মুখ দেখানো দায়?
ব্যাটিং কলাপ্স যেন এই দলটার রোজকার স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। ব্যাটাররা আসবেন আর চলে যাবেন, মাঝের সময়টা কেবলই বাধ্যতামূলক হাজিরা পর্ব। যেখানে ম্যাচের ফলাফল কোন মূখ্য বিষয় নয়। যার প্রমাণ মিলল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। ২৯৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল মোটে ৯৩ রানে।
সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে আগেই, সুযোগ ছিল ওয়াইট-ওয়াশের লজ্জা এড়ানোর। তবে টস ভাগ্য সহায় হলো না বাংলাদেশের। আফগানরা আগে ব্যাট করতে নেমেই বুঝিয়ে দিয়েছিল ম্যাচের ফলাফল কোনদিকে যাবে।

রাহমানউল্লাহ গুরবাজ আর ইব্রাহিম জাদরানের ৯৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে শুরুতেই। ইব্রাহিমের ব্যাট থেকে আজও আসে ৯৫ রানের ইনিংস। তবে মাঝের সময়টাতে কিছুটা হোচট খায় আফগান শিবির। যে রান ৩০০ পেরুনোর কথা তা ২৫০-এর আগেই শেষ হতে বসেছিল।
সেখান থেকে মোহাম্মদ নবীর ঝড়। ৬২ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোরবোর্ডে আনেন ২৯৩ রান। ম্যাচ তখন বাস্তবিক অর্থেই চলে যায় তাদের ডেরায়।
তাই বলে বাংলাদেশ যে দাঁড়াতেই পারবে না সেটা কে বা ভেবেছিল। তবে বর্তমানে এই দল যে সবকিছুর উর্ধ্বে। শেষ ওয়ানডের একাদশে ওপেনিং রদবদল হলো ঠিকই, ভাগ্যের অলিখিত নিয়ম পরিবর্তন করা গেল না। তানজিদ তামিমের জায়গায় এলেন নাইম শেখ, ২৪ বলে সাত রানের ইনিংস খেলে তিনিও বুঝিয়ে দিলেন এই জায়গাটা তাঁর জন্য নয়।

নাজমুল শান্ত যেন রান না করার সংকল্প করেছেন। দলের মিডল অর্ডার সামলানোর দায়িত্বে থাকা তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এলেন নিয়মরক্ষার্থে। একপ্রান্তে কেবল লড়ে গেলেন সাইফ হাসান। মন্দের ভালো বলতে তাঁর করা ৪৩ রানের ইনিংসটাই। দলীয় ৭০ রানের মাথায় যখন আফগানদের চার নম্বর শিকার হয়ে সাজঘরের পথে হাটা শুরু করলেন তিনি, এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো ব্যাটিং অর্ডার।
শেষটাতে ৯৩ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। আফগানদের বিপক্ষে পরাজয়ের ব্যবধানটা কাটায় কাটায় ২০০ রান। ওয়ানডেতে এমন বিদঘুটে ব্যাটিং কেবল বাংলাদেশের পক্ষেই করা সম্ভব। এমন হার কেবল বাংলাদেশ বলেই সম্ভব।
Share via:











