আপিল করছেন প্রায় প্রতিটা ডেলিভারিতেিই, সেটা এতটাই যে কখনও আম্পায়াররাও সতর্ক করে দিচ্ছেন। প্রতিপক্ষকে তটস্থ রেখেছেন। চটপটে মুভমেন্টে ব্যাটারদের বিরক্ত করছেন, ফিল্ডারদের প্লেসমেন্ট সাজাচ্ছেন। দারুণ রিফ্লেক্সে ব্যাটারকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছেন।
বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে ‘অ্যানিমেটেড’ চরিত্র নুরুল হাসান সোহান। লিটন দাস না থাকলে উইকেটের পেছনে তিনিই যে দাঁড়াবেন, সেটা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার দরকার হয় না বাংলাদেশের। তারপরও এশিয়া কাপের মঞ্চে কেন উইকেটরক্ষণের দায়িত্বে জাকের আলী থাকবেন – সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।

ঘরোয়া ক্রিকেটের মাপকাঠি বলে, এই সময়ে দেশের সেরা উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। সেই ছোঁয়াটা থাকল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। চারটি ডিসমিসাল পেয়েছেন। স্পিনারদের টানা আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটানো সোহান উইকেটের পেছনে নিয়েছেন চারটি ক্যাচ। একটা স্ট্যাম্পিংও পেয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু ফিফটি-ফিফটি চান্স যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে।
নুরুল হাসান সোহান ইউটিলিটি ক্রিকেটার। তিনি মাঠে থাকলে যেকোনো ভূমিকায় দলকে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে যাবেন বারবার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সেটা পারেননি। ১০ বলে মাত্র নয় রান করে ফিরে গেছেন। তবে, সেই ভূমিকাটা ফিরিয়ে দিয়েছেন উইকেটরক্ষক হিসেবে।

তিনি নিজেও জানেন, লিটন দাস ফিরলে এই জায়গাটা তিনি আর পাবেন না। তবে, যতক্ষণ মাঠে আছেন দলের জন্যই নিজেকে উৎসর্গ করে দেন নুরুল হাসান সোহান। ইউটিলিটি ক্রিকেটার এজন্যই দরকার বারবার।










