তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁইয়েই যেন উদগীরিত লাভার মতো নিজের চাপা আগুন বাইরে নিয়ে আসলেন মুশফিকুর রহিম। বুনো উল্লাসে মাতলেন, ধরা দিলেন ভিন্ন এক রূপে। অবশ্য পারফরম্যান্সের বিচারে এমনটাই তো স্বাভাবিক। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলাতেও যে উজ্জ্বল আলোর দীপ্তি এসে আছড়ে পড়েছে এই অভিজ্ঞ সেনানীর ব্যাটে।
আগের দিনে অপরাজিত থেকেছেন ৯৩ রানে। সাতটা রান পাওয়ার অপেক্ষা বাড়ল রাত পেরিয়ে সকাল পর্যন্ত। তবে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে মুশফিক দেখছিলেন সতীর্থদের আসা-যাওয়া। যা গিয়ে ঠেকল একেবারে শেষ উইকেটে। সেঞ্চুরিটা তখন অনেক দূরে।
ভাগ্য সহায় হলো এ যাত্রায়। স্ট্রাইক পেয়েই তা শতভাগ কাজে লাগালেন তিনি। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তুলে নিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯তম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস টেনেছেন ১১৫ রান পর্যন্ত।

মুশফিকের ব্যাট দলের জন্য আজও ভরসার নাম হয়েই আছে। সময় বদলেছে, বয়স বাড়ছে তবুও তাঁর ব্যাট নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেই টিকে আছে। সেই প্রমাণটা এই সেঞ্চুরি। দলকে চাপ থেকে টেনে তোলার পুরনো অভ্যাসের স্মারকলিপি।
টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডের পাঠ চুকিয়েছেন আগেই। শুধু সফেদ পোশাকের মায়াজাল এখনও ভেদ করতে পারেননি। টেস্ট ক্যারিয়ারে নামের পাশে ৯৮ ম্যাচ। আর মাত্র দু’টি হলেই আরও এক শতক ধরা দেবে নামের পাশে। মঞ্চটাও যে প্রস্তুত হচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত সময়ের জন্য।
সব ঠিকঠাক থাকলে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজই সব অপেক্ষার অবসান ঘটাবে। তার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে মুশফিকের এমন রূপটা আশার পালে আরও বাড়তি হাওয়া যোগ করছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে, সময়টা এখনও শেষ হয়নি, ব্যাটটা এখনও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ভরসা যুগিয়ে যাচ্ছে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’-কে।












