চার দেশ, চার বাজির ঘোড়া

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত করেছে ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের মোক্ষম সময়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নিংড়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু এই উত্তরণ কেবল মাঠের লড়াইয়ে নয়, বরং ড্রেসিংরুমের নিভৃতে নেওয়া কিছু দুঃসাহসী এবং জাদুকরী সিদ্ধান্তের ফসল।

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত করেছে ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের মোক্ষম সময়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নিংড়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু এই উত্তরণ কেবল মাঠের লড়াইয়ে নয়, বরং ড্রেসিংরুমের নিভৃতে নেওয়া কিছু দুঃসাহসী এবং জাদুকরী সিদ্ধান্তের ফসল।

  • ভারত – সাঞ্জু স্যামসন

ভারতের জাদুকরী সিদ্ধান্তটি ছিল সাঞ্জু স্যামসনকে দলে নেওয়া।ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের শুরুর দিকে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আধিপত্য যেন ছিল প্রতিপক্ষ অফ স্পিনারদের জন্য এক নিমন্ত্রণপত্র। সেই চেনা ছকের সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ সহসাই ভারতকে কোণঠাসা করছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে হারের পর ভারত যখন একদম খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে, তখনই টিম ম্যানেজমেন্ট সাঞ্জুকে খেলানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো। আর সেই আস্থার প্রতিদানও যেন দু’হাত ভরে দিয়েছেন সাঞ্জু। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৯৭* রানের এক ঐতিহাসিক ইনিংস খেলে দলকে নিয়ে গেছেন সেমিফাইনালে।

  • ইংল্যান্ড – হ্যারি ব্রুক

হ্যারি ব্রুকের প্রতিভা নিয়ে কোনো কালেই সংশয় ছিল না, কিন্তু পাঁচ নম্বর পজিশন যেন তার সামর্থ্যের প্রতি ছিল এক নীরব অবিচার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা অবশেষে সেই ভুল শুধরে নিলেন। পাল্লেকেলের সেই বিষণ্ণ পিচে যখন শাহীন আফ্রিদি আগুনের গোলা ছুড়ছেন, তখন তিন নম্বরে ব্যাটিং অর্ডারের হাল ধরলেন ব্রুক।

​৫১ বলে অপরাজিত ১০০ রান! ব্রুকের এই সেঞ্চুরিটি যেন ছিল মরুদ্যানে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। যেখানে দলের বাকি আটজন ব্যাটসম্যান মিলে সাকুল্যে ৬৬ রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেখানে ব্রুক একাই ম্যাচের ভাগ্যরেখা লিখে দিলেন।

  • দক্ষিণ আফ্রিকা – লুঙ্গি এনগিদি

দক্ষিণ আফ্রিকার চিরাচরিত রণকৌশলে লুঙ্গি এনগিদি ছিলেন নতুন বলের জাদুকর। কিন্তু সুপার এইটের রণক্ষেত্রে এইডেন মার্করাম এনগিদির ভূমিকাকে নতুন রঙে রাঙালেন। পাওয়ারপ্লেতে তাঁর ওভার কমিয়ে এনগিদির ওভার বাঁচিয়ে রাখা হলো ইনিংসের মধ্যভাগের জন্য।

​পুরনো বলে তাঁর সেই মায়াবী অফ কাটার আর লেগ কাটারগুলো ব্যাটসম্যানদের জন্য হয়ে উঠল এক রহস্যময় গোলকধাঁধা।

  • নিউজিল্যান্ড – কোল ম্যাককঞ্চি

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট মানেই ছক ভাঙার খেলা। দলের অন্যতম তারকা জিমি নিশামকে বসিয়ে রেখে কোল ম্যাককঞ্চিকে একাদশে নেওয়াটা ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর। কিন্তু প্রেমাদাসার ঘূর্ণি আর মন্থর পিচে ব্যাট ও বল হাতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন এই কিউই অলরাউন্ডার।

​দল যখন ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধংসস্তূপ, তখন মিশেল স্যান্টনারকে সাথে নিয়ে ৪৭ বলে ৮৪ রানের এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়লেন তিনি।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link