মাঠের লড়াই শেষ হয়েছে গত জানুয়ারিতেই। গ্যালারির গর্জন থেমেছে, বাতি নিভেছে স্টেডিয়ামের। কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) রেশ এখনো কাটেনি কিছু ক্রিকেটারের জীবনে। তবে তা জয়ের আনন্দে নয়, বরং বকেয়া পাওনা না পাওয়ার বিষাদে। লিগ শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঢাকা ক্যাপিটালসের অনেক ক্রিকেটারের পকেটে এখনো পৌঁছায়নি তাদের ঘাম ঝরানো পারিশ্রমিকের বড় একটি অংশ।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধের সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামো রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ২৫ শতাংশ, লিগ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে ৫০ শতাংশ এবং টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই বাধ্যবাধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালস যেন হাঁটছে এক ভিন্ন পথে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এখনো ক্রিকেটারদের পাওনা মেটানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। যেখানে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এরই মধ্যে তাদের দেনা-পাওনা চুকিয়ে পেশাদারিত্বের নজির গড়েছে, সেখানে ঢাকা ক্যাপিটালসের এই নীরবতা চরম অপেশাদারিত্বেরই নামান্তর।

স্কোয়াডের গুটিকতক ক্রিকেটার আংশিক অর্থ পেলেও বড় একটি অংশ এখনো রয়েছেন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। সামনেই মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে যখন অর্থের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তখন বিপিএলের মতো জমকালো আসরে খেলেও পারিশ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করাটা ক্রিকেটারদের জন্য যেমন যন্ত্রণাদায়ক, তেমনি লজ্জার।
এক দেশীয় ক্রিড়াভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্র মতে, ক্রিকেটাররা বকেয়া অর্থের বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর। বরং ‘দিচ্ছি-দেব’ এমন অস্পষ্ট আশ্বাস আর কালক্ষেপণে সময় পার করছে ম্যানেজমেন্ট। খেলোয়াড়দের অভিযোগ যে, বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মাঝে কোনো ধরনের তৎপরতা বা সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর এমন অপেশাদার আচরণে বিপিএলের মান এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিদেশি ক্রিকেটাররা বিপিএলে আসার আগে এখন দ্বিধায় ভোগেন – দিনশেষে পারিশ্রমিকটা আদৌ মিলবে তো?










