১১২ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের একটা দল লড়াই চালিয়ে গেছে নয় নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের একটা দলের সাথে। যারা ছয় বার এশিয়ান কাপের ফাইনাল খেলেছে, জিতেছে তিনটিতে। এই লড়াইটাকে অসম না বলে কি আর উপায় আছে? বাংলাদেশের মেয়েরা চেষ্টা করে গেছে, তবে দুই দলের ব্যবধান যে আকাশ-পাতাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে উত্তর কোরিয়া, নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে থাকে। পঞ্চম মিনিটেই বাংলাদেশের গোলপোস্টে বড় পরীক্ষা আসে। বক্সে ঢুকে কোরিয়ান ফরোয়ার্ড হান জিং হংয়ের নেওয়া শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মিলি আক্তার। যদিও পরে অফসাইডের সংকেত ওঠে।
১৪ মিনিটে উত্তর কোরিয়া জালের দেখা পায়। বক্সের ভেতর বল পেয়ে গোল করে কোরিয়া, তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিএআরে দেখা যায় হ্যান্ডবলের ঘটনা, ফলে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
কিন্তু তাতেও থামেনি উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ। ২৬ মিনিটে আবারও বল জালে জড়ায়। কর্নার থেকে হ্যান ঝিং হংয়ের হেড ঠেকান মিলি। কিন্তু তার ধরে রাখা বলেই শট নিয়ে গোল করেন মিও ইয়ো ঝং। এবারও ভিএআরের সাহায্যে গোল বাতিল হয়।

মিনিট পাঁচেকের ব্যবধানে আরও একবার জালে বল পাঠায় কোরিয়া, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটিও বাতিল হয়ে যায়। যেন ভাগ্য বারবার বাংলাদেশের পক্ষেই দাঁড়াচ্ছিল।
তবে পুরো প্রথমার্ধেই নিজেদের খুঁজে ফিরেছে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা, মনিকা কিংবা তহুরারা আক্রমণে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। ৩৮ মিনিটে আবারও বড় বিপদ আসে বাংলাদেশের সামনে। কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে শেষটাতে শেষ রক্ষা হয়নি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে বসে কোরিয়া। শেষ সময়ের হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
বিরতির পর কোরিয়া যেন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠল। একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হতে লাগল বাংলাদেশ। বেশিক্ষণ আর আটকে রাখা গেল না কোরিয়াকে। ৬২ এবং ৬৪ মিনিট, অর্থাৎ আবারও দুই মিনিটের মাথায় দুই গোল হজম করে। এরপর ৯০ মিনিটের শেষ ধাক্কাটা খায় বাংলাদেশ। ওই পাঁচ গোলই হয়ে থাকে বাংলাদেশের পরাজয়ের কারণ।
স্কোরকার্ড দেখে হতাশ হতে পারেন অনেকেই। হতাশা আরও বাড়তেই পারত, যদি না মিলি আক্তার নামের অতন্দ্র প্রহরী দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যেতেন গোলবারের সামনে। কোরিয়া বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পার্থক্যটা চোখে আঙুল দিয়েও বুঝিয়ে দিয়েছে। দিনশেষে যে মাঠের খেলাটাই নির্ধারণ করে ফলাফল, যেখানে পরাজয়টা বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকেছে। তবে তাতে খুব হতাশ হওয়ার কিছু আছে কি? এটা যে অনুমেয়ই ছিল।

Share via:










