দু’দুখানা দুর্ধর্ষ ক্যাচে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন বানালেন ঈশান কিষাণ। মোটাদাগে এই বক্তব্য দিলেও নিশ্চয়ই ভুল বলা হয় না। রাচিন রবীন্দ্র ও টিম সেইফার্টের মত দুই ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠাতে হলে করতে হতো দারুণ কিছু। ঈশান তাই করেছেন। যদিও শুরুতেই শিভাম ফেলেছিলেন এক সহজ ক্যাচ।
এবারের বিশ্বকাপে ভারতের ক্যাচ মিস করার ভয়ানক প্রবণতা দেখা গেছে। ভারতের ফিল্ডিং মানদণ্ড অনুযায়ী যা ছিল এক কথায় অবিশ্বাস্য। ফাইনালে শিভাম দুবের ফেলে দেওয়া সরল ক্যাচ আবার জাগিয়েছিল প্রশ্ন। ভারতের ফিল্ডিং তবে কি নড়বড়ে হয়ে গেল? তবে ঈশান একাই দলের উপর আসা প্রশ্নের জবাব বনে গেলেন।
রাচিন রবীন্দ্রের ক্যাচটা তো প্রায় হাত ফসকেই গিয়েছিল। অনেকটা পথ দৌড়ে এসে ফুলস্ট্রেচ ডাইভ দেন ঈশান। হাতে বল নিয়ে যখন মাটিতে পড়লেন, তখন বল ফসকে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু সেই যাত্রায় ঈশান ভুল করলেন না। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গর্দানের কাছাকাছি অবস্থানে চেপে ধরলেন বলকে।

কিন্তু তখনও তো শিরোপা বহুদূর। টিম সেইফার্টকে তাই ফেরানো বন্দোবস্ত করেন ঈশান কিষাণ। এদফা ক্যাচ নিয়ে প্রায় বাউন্ডারি বাইরেই চলে যাচ্ছিলেন। নিজেকে সামলে নিলেন। বল হাওয়া ছুড়ে দিয়ে আবার তালুবন্দী করলেন। নতুন নিয়মের ব্যত্যয়ও ঘটালেন না। এই দু’টো ক্যাচেই ম্যাচ চলে আসে ভারতের হাতের মুঠোয়।
অথচ এবারের টুর্নামেন্টে ক্যাচ মিসের মহড়া দিয়ে বসেছিল ভারত। টিম ইন্ডিয়ার ক্যাচ ধরার দক্ষতা ঘুরপাক খেয়েছিল ৭০ শতাংশের ঘরে। ভারতের জন্য এটি অবশ্যই অপমানজনক। শিরোপা হাতছাড়া করার জন্যেও যথেষ্ট। তবে ভারতের ফিল্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দারুণ সব ক্যাচ লুফে নিয়ে, দলকে হতে দেননি বিপদগামী।
এর মধ্যে ঈশানের এই দু’টো ক্যাচের জায়গা হবে অনায়াসে। সেমিফাইনালে অক্ষর প্যাটেলের দু’টো ক্যাচকেও স্থান করে দেওয়া যায়। যদিও একটি ক্যাচ লেখা হয়েছিল শিভাম দুবের নামে। তবে উইল জ্যাকসকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাউন্ডারি লাইনে অক্ষরের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

বহু ক্যাচের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেও শেষ অবধি চ্যাম্পিয়ন ভারত। কারণ এমন ক্লাচ মোমেন্টে ভুল কম করা। আগের ভুলগুলোকে অতি আবেগের সাথে মস্তিষ্কে জায়গা না দেওয়া। সুযোগ লুফে নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছপা না হওয়াই দিনশেষে ভারতের হাতে টানা দ্বিতীয় দফা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা তুলে দিয়েছে।











