অনন্ত যৌবনা নদীর নাম বুমরাহ

২০ টি উইকেট নিয়েও জিততে পারেননি শিরোপা। সেই হতাশা থেকে শক্তি সঞ্চার করে পরপর তিনটা আইসিসি ইভেন্ট জিতল ভারত। আর সেই জয়যাত্রার অগ্রসেনানী জাসপ্রিত ‘বুমবুম’ বুমরাহ।

জাসপ্রিত বুমরাহ স্পেশাল ট্যালেন্ট। পারফরম করতে তাঁর উইকেট কেমন, সেটা বোঝা খুব জরুরী নয়। কারণ তিনি স্পেশাল। স্পেশাল বলেই তিনি ব্রিজটাউনের স্পোর্টিং ট্র্যাকে উইকেট আনতে পারেন, উইকেট আনতে পারেন আহমেদাবাদের ব্যাটিং স্বর্গে।

আর সবগুলো শেষে ফলাফল একটাই হয়। বিশ্বকাপ জিতে যায় ভারত। টানা দ্বিতীয়বারের মত ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের শিরোপা হাতে নিতে পারে ভারত। বিশ্বকাপ যায় বিশ্বকাপ আসে, কিন্তু বুমরাহ কখনও বদলান না, তাঁর প্রতিভা, তাঁর ইমপ্যাক্ট যেন অনন্ত যৌবনা।

তবে, এবারের যাত্রাটা অন্যরকম। ফেবারিট তকমা নিয়ে আসা ভারতের বুমরাহ রান গুনছিলেন বেশ। ভারত তখন পরিকল্পনা পাল্টায়। ফিরে যায় পুরনো ভূমিকায়, মিডল ওভারে আগের সেই ভূমিকা পান বুমরাহ। ব্যস, হারানো জাদুটা যেন পুরোদমে ফিরে আসে বুমরাহর হাতে।

সেই হাত ধরেই এল আরেকটি বিশ্বকাপ। নক আউট রাউন্ড মানেই বুমরাহকে কোনো ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোক, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড হোক কিংবা ফাইনালের নিউজিল্যান্ড – কেউ পারেনি। যেমন ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাও পারেনি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বুমরাহর উইকেট সংখ্যা এখন ৪০ টা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আর মাত্র একটা বিশ্বকাপ খেলতে পারলেই তিনি টপকে যাবেন বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের ৫০ টি উইকেট নেওয়ার কীর্তি।

বুমরাহ সত্যিই এক অনন্ত যৌবনা নদী, তিনি লড়তে জানেন, প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভাঙতে জানেন। ভারতকে শিরোপার স্বাদ এনে দিতে পারেন বারবার। ২০২৩ সালে এই আহমেদাবাদেই ভারতের পতন দেখেছিলেন বিশ্বকাপে।

২০ টি উইকেট নিয়েও জিততে পারেননি শিরোপা। সেই হতাশা থেকে শক্তি সঞ্চার করে পরপর তিনটা আইসিসি ইভেন্ট জিতল ভারত। আর সেই জয়যাত্রার অগ্রসেনানী জাসপ্রিত ‘বুমবুম’ বুমরাহ।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link