সারথী থেকে বিশ্বজয়ী গুরু-শিষ্য

প্রথমবারের মতো স্বাগতিক দেশ হয়ে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বজয়। প্রথমবারের মতো টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরও কতশত কীর্তি কথা রচনা করল ভারত। আর সেই কীর্তিকথার নেপথ্যে ডাগ আউটে গুরু আর মাঠে গুরুদায়িত্বটা ছিল এক সময়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা গৌতম গম্ভীর এবং সুরিয়াকুমার যাদবের কাঁধে।

প্রথমবারের মতো স্বাগতিক দেশ হয়ে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বজয়। প্রথমবারের মতো টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরও কতশত কীর্তি রচনা করল ভারত। আর সেই কীর্তিকথার নেপথ্যে ডাগ আউটে গুরু আর মাঠে গুরুদায়িত্বটা ছিল এক সময়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা গৌতম গম্ভীর এবং সুরিয়াকুমার যাদবের কাঁধে।

স্মৃতির ধুলো ঝাড়লে মনে পড়ে ইডেন গার্ডেন্সের সেই সোনালী বিকেলগুলো। বেগুনি-সোনালী জার্সিতে যখন গৌতম গম্ভীর ছিলেন এক ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিনায়ক, আর সুরিয়াকুমার যাদব ছিলেন এক আনকোরা তরুণ, যার ব্যাটে ছিল কেবলই অদম্য সাহস আর নতুনত্বের ছোঁয়া।

২০১৪ সালে দু’জন এক সাথে জিতেছিলেন আইপিএলের শিরোপা। গৌতম ছিলেন অধিনায়ক। ‍সুরিয়াকুমার ছিলেন মিডল অর্ডারের ভরসা। গম্ভীরের সেই আপোষহীন ক্রিকেট দর্শন সেদিন যে বীজ বুনেছিল, আজ ২০২৬ এর ক্যালেন্ডারে তা মহীরুহ হয়ে ধরা দিল।

আহমেদাবাদের নীল সমুদ্রের গর্জনে ভারত যখন টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয় করল, তখন মাঠের সীমানার বাইরে ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে থাকা সেই গম্ভীর ছিলেন প্রধান গুরু ভূমিকায়। আর সুরিয়ার কাজ ছিল গুরুর বানানো কৌশল ও ছক মাঠে বাস্তবায়ন করা।

গম্ভীরের সেই আপোষহীন ক্রিকেট দর্শন আর সুরিয়াকুমারের উদ্ভাবনী মেজাজ আজ এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। আহমেদাবাদের সেই জনসমুদ্রে যখন ভারত বিশ্বজয়ের কেতন ওড়ালো, তখন মনে হচ্ছিল এ যেন কলকাতার সেই পুরনো ইডেনেই ফিরে যাওয়া।

গুরুর নির্দেশ আর শিষ্যের নির্ভীক প্রয়োগ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই ভারত আজ বিশ্বক্রিকেটের সিংহাসনে বসেছে আরেকবার। ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে, কেকেআরের সেই দুই ‘নাইট’ বা যোদ্ধাই আজ ভারতের ক্রিকেটের আকাশকে সূর্যের মতো উজ্জ্বল আর গম্ভীরের মতো অটল করে তুলেছেন।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link