উজবেকিস্তানের কাছে হারলেও মাথা উঁচুতেই থাকল বাংলাদেশের!

প্রতিবন্ধকতা, চড়াই-উতরাই আর অগণিত লড়াই পেরিয়ে এশিয়ান কাপের মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। যে মঞ্চে পৌঁছানোই এক সময় ছিল স্বপ্ন, সেখানেই বাস্তবের গল্প লিখেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে জেতা হয়নি একটিতেও। শেষ ম্যাচে শক্তিশালী উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেই আসর শেষ করল ঋতুপর্ণা চাকমারা।

প্রতিবন্ধকতা, চড়াই-উতরাই আর অগণিত লড়াই পেরিয়ে এশিয়ান কাপের মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। যে মঞ্চে পৌঁছানোই এক সময় ছিল স্বপ্ন, সেখানেই বাস্তবের গল্প লিখেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে জেতা হয়নি একটিতেও। শেষ ম্যাচে শক্তিশালী উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেই আসর শেষ করল ঋতুপর্ণা চাকমারা।

হারানোর কিছু নেই, স্বপ্ন যে আগেই পূরণ হয়েছে। শেষটা ভালো করাটাই ছিল মূল লক্ষ্য। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠা, উইং ব্যবহার করা—সবকিছুতেই ছিল ইতিবাচক মানসিকতা। তবে আক্রমণভাগে পৌঁছে নার্ভটা ধরে রাখতে পারেনি বাংলার মেয়েরা।

সুযোগ বুঝে দশ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে বসেছে উজবেকিস্তান। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে ঠিকই, তবে সফলতা ধরা দেয়নি।প্রথমার্ধের বাকিটা সময় চোখে চোখ রেখেই লড়াই চালিয়েছে বাংলাদেশ।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে এসে সেই ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেনি, ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়তে থাকে দলটি, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় উজবেকিস্তান।

৬২ মিনিটে দিলদোরা নোজিমোভার গোলে ব্যবধান হয় ২–০। ওখান থেকে নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আবারও বাংলাদেশের জালে বল জড়ায়। দ্রুতগতির প্রতিআক্রমণে তখন বেশ বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগ।

শেষদিকে আরেকটি গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৮৮ মিনিটে  চতুর্থ গোল করে উজবেকিস্তান। গোলরক্ষক মিলি চেষ্টা করেও সেই বল ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪–০ গোলের ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচে মোট ১১ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। সংখ্যার হিসেবে এটি কঠিন বাস্তবতা। কিন্তু তাতেই শেষ হয়ে যায় না এই আসরের গল্প। কারণ এই টুর্নামেন্টেই ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশের পুরুষ দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলেছিল। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে সেই মহাদেশীয় মঞ্চেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের নারী দল।

ফলাফল হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, কিন্তু সাহস, লড়াই আর ইতিবাচক ফুটবল দিয়ে এই আসরটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। স্কোরলাইনে হার থাকলেও তাদের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ফুটবলের এক গর্বের অধ্যায়।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link