যারা টিভি সেটের পর্দাতেও খেলা দেখেননি- তারা নিখাঁদ বিনোদন মিস করেছেন- সে কথা বলে দেওয়া যায় অনায়াসে। মিরপুরের কালিমার মুছে দিতে চাইল পেসারদের ত্রাসের আঘাত। বাংলাদেশের তিন পেসার বাগিয়ে নিলেন সাত খানা উইকেট। তবে উইকেট প্রাপ্তিই তো শেষ কথা নয়।
মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে একটা ধারণা থিতু হয়ে গেছে। মন্থর গতি, স্বল্প বাউন্সের এক বিরক্তিকর বাইশ গজ। কিন্তু টনি হেমিংয়ে ছোঁয়ায় মিরপুরও বনে গেল পিওর স্পোর্টিং উইকেট। যার উপর দাঁড়িয়ে নিজের সক্ষমতাই প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
পাকিস্তানি ব্যাটারদেরকে গতির হুমকিতে পপিং ক্রিজে আবদ্ধ করে ফেলেছিলেন। তাতেও যখন রুক্ষতা স্পষ্ট হয়নি তখন ঘাতক সব বাউন্সার ছুড়ে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ-নাহিদ রানারা। সিলি মিড অনে ফিল্ডারের ফাঁদ পেতে সেখান থেকেও উইকেট আদায় করে নিয়েছেন নাহিদ।

হার্ড লেন্থে বল হিট করেছে, যথাযথ বাউন্সে বল ক্যারি হয়েছে, বাউন্সার হয়েছে, উইকেটের পতন ঘটেছে, বাইশ গজে বুনো উল্লাস হয়েছে। শুধু কি তাই? পাকিস্তানকে একেবারেই কোণঠাসা করে ফেলেছিল বাংলাদেশের পেসাররা। তাতে করে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সিদ্ধান্ত নিলেন, টেস্ট ম্যাচের ফিল্ডিং সাজাবেন।
নাহিদ রানার করা টানা স্পেলের সময় ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতরই ছিলেন অধিকাংশ খেলোয়াড়। সবাই প্রায় ছিলেন ক্যাচিং পজিশনে। এমনকি মিড অন অঞ্চলও খালি রেখেছিল বাংলাদেশ। টাইগার পেসাররা এতটাই পেছনে ঠেলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের।
এমন দিনের দেখা মিলবে মিরপুরে সেটা তো রীতিমত ছিল অবিশ্বাস্য। স্পিনারদের ঘূর্ণি সামলাতে সামনে ঝুকে খেলতে হবে ব্যাটারদের। সেই দিন যেন হয়ে গেছে অতীত। পেস ব্যাটারির উন্নতির সাথে সাথে ঘরের মাঠেও ব্যাটারদের সাথে করা ছেলেখেলা দিনে দিনে যেন হয়ে উঠছে দারুণ উপভোগ্য।












