২০ ওভারের বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। যার ব্যাটে বিশ্বমঞ্চে পুড়েছে বাঘা বাঘা বোলারদের দম্ভ, সেই সাঞ্জু স্যামসন এখন আইপিএলের আঙিনায় যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়েই যেন মরচে ধরেছে তার ব্যাটে।
তিনটি ম্যাচ পার হয়ে গেছে, কিন্তু সাঞ্জু স্যামসনের নামের পাশে কেবলই ২২ রান। ছয়, সাত আর নয় – এ যেন কোনো বিশ্বজয়ী তারকার স্কোরকার্ড নয়, বরং এক ক্লান্ত নাবিকের দিকভ্রান্ত হওয়ার খতিয়ান। তবে ভক্তদের হাহাকার শুধু রানের জন্য নয়, তারা ব্যথিত সাঞ্জুর সেই চিরচেনা হাস্যোজ্জ্বল অবয়বের অভাবে। মাঠে যখনই ক্যামেরা তার ওপর স্থির হচ্ছে, ধরা পড়ছে এক বিষণ্ণ সাঞ্জুকে।
সাঞ্জুকে উদ্দেশ্য করে এক ভক্ত লেখেন, ‘যদি আপনি মানসিকভাবে খেলায় না থাকেন, তবে দয়া করে ক’টি ম্যাচের জন্য বিশ্রাম নিন। আপনার চোখে-মুখে সেই পুরোনো ক্ষুধা বা লড়াইয়ের জেদ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা শুধু রান নয়, আপনার সেই চেনা হাসি আর আত্মবিশ্বাসটুকু ফিরে পেতে চাই।’

শেষ ম্যাচে আরসিবির বিপক্ষে ২৫১ রানের সেই দুর্ভেদ্য লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের শুরুটা ছিল যেন তাসের ঘরের মতো। মাত্র ৩০ রানেই যখন টপ অর্ডার মুখ থুবড়ে পড়ল, তখন মাঝপথে সরফরাজ খানের লড়াকু ইনিংস কিংবা প্রশান্ত বীর ও জেমি ওভারটনের ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলো কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ১৯.৪ ওভারে ২০৭ রানেই থেমে যায় চেন্নাইয়ের লড়াই।
চেন্নাই সুপার কিংস এখন সিজনের প্রথম জয়ের সন্ধানে তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো চেয়ে আছে। কিন্তু দলের টপ অর্ডার যদি দ্রুত ছন্দে না ফেরে, তবে এবারের যাত্রা মহেন্দ্র সিং ধোনির উত্তরসূরিদের জন্য হতে চলেছে আরেকটি হতাশা ও আক্ষেপের গল্প।
বিশেষ করে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে চেন্নাই আসা সাঞ্জু স্যামসন কি পারবেন তার ভেতরের সেই বিশ্বজয়ী সত্ত্বাকে আবার জাগ্রত করতে? ক্রিকেট অনুরাগী থেকে শুরু করে চেন্নাই ম্যানেজমেন্ট – সবার চোখ এখন সেদিকেই।












