নভেম্বর এখনো অনেক দূরে, কিন্তু জোহানেসবার্গের বাতাসে যেন আগেভাগেই এক চাপা উত্তেজনা টের পাচ্ছেন টেম্বা বাভুমা। কারণ ডারউইনের মাঠে যা ঘটে গেছে, তার রেশ শুধু বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমেই আটকে নেই—ভেসে গেছে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত, প্রোটিয়া অধিনায়কের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো এক সতর্কবার্তা হয়ে।
২৩ বছরের অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ, আর সেই ইতিহাস গড়ার নেপথ্যে ছিল বল হাতে এক নীরব বিদ্রোহ। টাইমস লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাভুমা তাই রাখঢাক না রেখেই বলে দিলেন, ‘বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ বেশ ভালো, ওরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের চাপে রাখবে।’ কথাটা নেহাত সৌজন্যের নয়, বরং পরিসংখ্যানের আয়নায় দেখা এক বাস্তবতা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১ উইকেট নিয়ে ঝড় তুলেছিলেন নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে হাসান মাহমুদের হাত থেকে বেরিয়েছে নয় উইকেট, যার মধ্যে ডারউইনে এক ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৫ রান,এক ইনিংসেই যেন গোটা প্রতিপক্ষকে থমকে দেওয়ার গল্প। আর ম্যাকায়তে শরিফুল ইসলামের সাত শিকার প্রমাণ করেছে, নাহিদ না থাকলেও পেস আক্রমণের আগুন নেভেনি এক ফোঁটাও। জিম্বাবুয়ে সিরিজে চোট পেয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে যাওয়া নাহিদের অনুপস্থিতিতেও এই ধারাবাহিকতা—সেটাই সবচেয়ে ভয়ের কারণ প্রতিপক্ষের জন্য।

আগামী ১৫-১৯ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, এরপর ২৩-২৭ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে দ্বিতীয় টেস্ট। তার আগে অবশ্য অক্টোবরে ডারবানের কিংসমিডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টের অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হবে প্রোটিয়াদের—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ লড়াইয়ে টিকে থাকার লড়াই।
সেই ঝড় সামলে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাভুমা নিজেই স্বীকার করছেন, চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে থাকা মানেই প্রতিপক্ষের চোখে জ্বলে ওঠা এক আলাদা জেদ।তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের পিঠে যেন একটা লক্ষ্যবস্তু আঁকা আছে, যারাই আমাদের বিপক্ষে খেলতে নামবে, নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতেই নামবে।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, চারে বাংলাদেশ—কাগজে-কলমে ব্যবধানটা এখনও বেশ বড়। কিন্তু ডারউইনের সেই সকালের পর থেকে সংখ্যাগুলো কি আর আগের মতো নিরাপদ বোধ হচ্ছে বাভুমাদের কাছে?












