সেটা এমন এক সময়, যখন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ছিল মঞ্চভরা নাটক। সাদা পোশাক হোক বা রঙিন, দুই দলের মুখোমুখি মানেই ছিল যুদ্ধের দামামা। স্টেডিয়ামে জায়গা হোক বা টিভির পর্দায়, কোথাও বিন্দুমাত্র নিস্তরঙ্গতা থাকার সুযোগ ছিল না।
সে এক উত্তেজনার যুগ—যেখানে প্রতিটি ম্যাচেই মনে হত, যেন পুরোনো কোনো যুদ্ধের অমীমাংসিত ইতিহাস নতুন রূপে ফিরে এসেছে। শোয়েব মালিকের মত ক্রিকেটাররাও জড়িয়ে যেতেন বাকযুদ্ধে। সৌরভ তো মাঠে একবার ক্ষেপে গিয়ে বলেই ফেলেছিলেন, ‘তোকে ছাড়ব না, মাঠের বাইরে আয়।’
সৌরভ গাঙ্গুলিকে হরহামেশাই স্লেজিং করতেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা। অধিনায়ক থাকাকালীন দক্ষিণ ভারতের এক অভিনেত্রী নাগমার সাথে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সৌরভের বিরুদ্ধে।
তখন পাকিস্তানসহ প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররাও সৌরভকে ক্ষেপাতেন সেই অভিনেত্রীর নাম নিয়ে। তবে স্লেজিংয়ের সময় সৌরভ মেজাজ হারিয়েছেন খুব কম সময়ই। তেমনই মেজাজ হারানোর এক ঘটনা এবার সামনে তুলে আনলেন পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল।

২০০৫ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচের সেই ঘটনার বিবরণ দেন কামরান। ইউটিউবের একটি অনুষ্ঠানে কামরান বলেন, ‘মোহালি টেস্ট দানিশ কানেরিয়া যখন বোলিং করছিলো তখন মিড অনে ফিল্ডিং করছিল শোয়েব মালিক। দানিশ লেন্থ মিস করে। সৌরভ তখন ব্যাটিংয়ে ছিল এবং সে ওই বলে বাউন্ডারি মারে। এরপর শোয়েব মালিক আমাকে বলতে থাকে, দেখ কামরান। দাদা মনে হচ্ছে চাপে আছে। যে বলে ছক্কা মারা যায় সেই বলে চার মারল।’
শোয়েব মালিকের স্লেজিং সেদিন কাজে লেগেছিল। মালিকের কথায় উত্তেজিত হয়ে পরে বলে স্টেপ আউট করে খেলতে এসে আউট হন সৌরভ।
কামরান বলেন, ‘এই কথা শোনার পরের বলটি মারতে গিয়ে সৌরভ স্টেপ আউট করেন। তাকে স্ট্যাম্পিং করা হয়। আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে ছাড়তে সৌরভ শোয়েবকে বলছিলেন, তুই তো খুব চালাক। তোকে আমি ছাড়ব না। তুই বাইরে আয়।’
যদিও রেকর্ডের পাতা উল্টালে দেখা যায় কামরান পুরো ঘটনার ঠিকঠাক বিবরণ দিতে পারেননি। কারণ সৌরভ ওই ম্যাচে স্ট্যাম্পিং হননি। যদিও দানিশ কানেরিয়ার বলে সালমান বাটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২১ রানে আউট হন সৌরভ। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়।











