দেশ কালের সকল সীমা ছাড়িয়ে

কোচিং স্টাফের সকলে প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলে দেশ-কালের গন্ডি কোনো কিছুই আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। 

এদের কারো জন্ম ব্রাজিলে হয়নি, কিন্তু, ম্যাচের সময়ে দলের জন্যে আবেগ দেখলে তাঁদেরকে সেলেসাও বলে মনে হয়। অনেকদিন পর ব্রাজিলের চেনা নান্দনিক ও সুন্দর ফুটবলের যে পুনরুত্থান ঘটেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে এই বিদেশি-নির্ভর কোচিং প্যানেল। মাঠের ফুটবলকে তারা আবার শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন।

কার্লো আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় নিজের বিশ্বস্ত স্টাফদেরকেও সাথে নিয়ে আসেন। দুই ব্রাজিলিয়ান গোলকিপিং কোচ বাদে এই প্যানেলের সবাই বিদেশি। যেখানে সহকারী কোচ পল ক্ল্যামেন্ট ইংল্যান্ডের, ফ্রান্সেস্কো মরি এবং চিফ অ্যানালিস্ট সিমন মন্তানারো দুজনেই জাতিতে ইতালিয়ান। এমনকি কার্লো আনচেলত্তির ছেলে ডেভিড আনচেলত্তিও আছেন ব্রাজিলের কোচিং প্যানেলে।

ব্রাজিল এদের কারোরই নিজের দেশ নয়, কিন্তু সেলেসাওদের বিশ্বকাপের এনে দিতে সকলে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছেন। এরই এক অনন্য নিদর্শন দেখা যায় ব্রাজিল আর জাপানের ম্যাচে। তখন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলের পর ম্যাচের বাকি আর মাত্র তিন মিনিট। আনচেলত্তি এবং তাঁর স্টাফরা মরিয়া হয়ে চিন্তা করে যাচ্ছিলেন কিভাবে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়া যায়। অনেকটা দৌড়াদৌড়ি করতে তাদের দেখা যায় সেই সময়ে। 

এই দলের কেউওই ভোলেননি ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া সেই নির্মম ট্র্যাজেডির কথা। ব্রাজিলকে তারা আর সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি করতে দিতে চাননি। জন্মসূত্রে ব্রাজিলিয়ান না হয়েও, ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। এমনকি কার্লো আনচেলত্তি তো ভাষা পর্যন্ত শিখেছেন, গলা মিলিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাচ্ছেন ম্যাচ শুরুর আগে। 

 ব্রাজিল যে নান্দনিক ফুটবলের জন্যে বিখ্যাত সেটা বেশ কিছুদিন ধরেই মাঠে দেখা যাচ্ছিল না। আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে আবার ব্রাজিলের ফুটবলে শিল্পের ছোঁয়া ফিরিয়ে নিয়ে আনছেন। কোচিং স্টাফের সকলে প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলে দেশ-কালের গন্ডি কোনো কিছুই আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link