আলু, আজহারউদ্দীনের স্ত্রী ও দর্শক-পেটানো ইনজামাম

অনেকে অনেক কিছুই বলছিল। কোনো একজন দর্শক বলে ওঠেন, ‘ওয়ে মোটে, সিধা খারা হো! মোটে আলু, সারা হুয়া আলু!’ বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায়, ‘ওরে মোটু, সোজা হয়ে দাঁড়া! মোটা আলু, পচা আলু!’ ইনজামাম এতটাই ক্ষেপে গিয়েছিলেন যে, মাঠের বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থাকা দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়কে ব্যাট নিয়ে আসতে বলেন।

সাহারা কাপ – নব্বই দশকের ক্রিকেট ভক্তরা এই নামটার সাথে কমবেশি পরিচিত। কানাডার মাটিতে এই আসর বসতো। ক্রিকেটের খুব খর্বশক্তির দেশে আয়োজিত এই আসর নিয়েও আলোচনার ঝড় ছিল – কারণ সেখানে মুখোমুখি হত খোদ ভারত আর পাকিস্তান দল।

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ – তিন বছর চলেছিল এই দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। ১৯৯৯ কার্গিল যুদ্ধের সময় পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সাহারা ইন্ডিয়া টুর্নামেন্টটি থেকে সরে আসলে থেমে যায় এই আয়োজন। তবে, ক্রিকেটের ইতিহাসে আজো জ্বলজ্বল করছে এই আসর।

১৯৯৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। কানাডার টরেন্টোতে চলছিল তেমনই এক সাহারা কাপের ম্যাচ। মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল – ভারত ও পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ২০ রানে হেরে গিয়ে এমনিতেই চাপের মুখে ছিল ভারত।

তার ওপর ম্যাচে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১১৭ রানের। বোঝাই যাচ্ছে, কতটা বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। তবে, সেদিন খেলা ছাপিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল দর্শকের সাথে পাকিস্তানি ব্যাটস্যান ইনজামাম উল হকের আচরণ।

ঘটনা ঘটে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে। বোঝাই যাচ্ছিল ম্যাচটা যাবে ভারতের পকেটে। দর্শকরা তাই ক্ষেপে গিয়েছিলেন। তোপটা যাচ্ছিল ইনজির ওপর দিয়ে। ডন পত্রিকা দাবী করে, গ্যালারি থেকে নাকি রীতিমত গালিগালাজ আসছিল।

অনেকে অনেক কিছুই বলছিল। কোনো একজন দর্শক বলে ওঠেন, ‘ওয়ে মোটে, সিধা খারা হো! মোটে আলু, সারা হুয়া আলু!’ বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায়, ‘ওরে মোটু, সোজা হয়ে দাঁড়া! মোটা আলু, পচা আলু!’

ইনজামাম এতটাই ক্ষেপে গিয়েছিলেন যে, মাঠের বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থাকা দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়কে ব্যাট নিয়ে আসতে বলেন।

ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন তখনকার ভারতীয় দলের সদস্য বিনোদ কাম্বলি। তিনি দ্য গ্রেটেস্ট রাইভারলি পোডকাস্টে এসে বলেন, ‘আমরা ড্রেসিংরুমে বসেছিলাম। হঠাৎ করেই দেখলাম ইনজি একটা ব্যাট চেয়ে পাঠালো। আমাদের সামনে দিয়েই দ্বাদশ ব্যক্তি ব্যাট নিয়ে নেমে গেল। আমরা ভাবছিলাম ওর হঠাৎ করে ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যাট দরকার হবে কেন। এরপর যা ঘটলো, সেটা ছিল শকিং, খুবই শকিং!’

ওয়াকার ইউনুস বলেন, ‘হ্যা, এটা ঠিক যে – ওকে কেউ একজন আলু বলেছিল। তবে, একই সাথে এটাও ঠিক যে, দর্শকদের মধ্য থেকেই কেউ একজন মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছিলেন। আর এসব ইনজির একদম পছন্দ নয়।’

ওই সময় ঘটনা সামাল দিতে দু’দলের অধিনায়ককেই ছুটে আসতে হয়। তারা দু’জনে দর্শকদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। ৪০ মিনিটের জরুরী বিরতির পর ম্যাচ আবারো শুরু হয়। ভারত সাত উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

ঠিক কি ঘটেছিল তারপর? ইনজামাম ব্যাট হাতে চলে গেলেন ওপরে, ধস্তাধস্তি হল। ব্যাট দিয়ে পেটাতে পেটাতে দর্শককে নিচে টেনে নামালেন। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটকালো। বিভৎষ এক দৃশ্য!

তবে, পুরো ঘটনা কেবল ‘আলু’ বলায় ঘটেনি। এক দর্শক নাকি ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের স্ত্রীকে নিয়েও বাজে মন্তব্য করেছিলেন। তাই আর মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি ইনজি।

ঘটনার জের ধরে ইনজামাম দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। আদালতেও হাজিরা দিতে হয়। সেই সিরিজটা ভারত জিতে ৪-১ ব্যবধানে।

যদিও, সেই সিরিজে দর্শকের সাথে এমন ব্যবহারের জন্য ইনজি যতই সমালোচিত হন না কেন, পরের বছরই তিনি আলোচিত ছিলেন পারফরম্যান্সের কারণে। ১৯৯৮ সালের সাহারা কাপের সিরিজ সেরার পুরস্কার ওঠে ওই ‘আলু’র হাতেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...